বুধবারের (০৩ অক্টোবর) মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা তুলে দেওয়া হয়েছে। একইদিনে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কোটা তুলে দেওয়া ঠিক হলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন মেয়েরাও কোটা চাই না বলে আন্দোলন করে, মুক্তিযোদ্ধার নাতি-পুতিরাও কোটা চায় না। তাহলে কোটা রাখবো কার জন্যে। এজন্যই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনির সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা তুলে দিয়েছি। যদি কারও কোটা লাগে তাহলে আন্দোলন করুক। তখন ভেবে দেখবো।
সম্প্রতি জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওই সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে দরেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা তুলে দেওয়া ঠিক হলো কিনা জানতে চান।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ স্বাধীনতার পর কোটা দেওয়া হলো। যারা মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও অনগ্রসর তাদের জন্য এটা জাতির পিতা করে গিয়েছিলেন। এজন্য আন্দোলন লাগেনি। এরপর আমরা ক্ষমতায় আসার পর যখনই কোটা পূরণ হতো না আমি প্রতিবছর রিল্যাক্স করে দিতাম এটা তালিকা থেকে দিয়ে দেওয়া হোক। সেভাবেই কিন্তু হচ্ছিল। তারপর একবার বললাম যে এটা বারবার না এনে একটা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম করে ফেলো। যেখানে কোটা পূরণ না হবে জায়গা যেন খালি না থাকে সেটা ওই তালিকা থেকে পূরণ করা হবে। সেভাবেই কিন্তু চলছিল। এই অবস্থায় হঠাৎ আন্দোলন...।’
প্রশ্নকর্তাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমরাও ছাত্র আন্দোলন করেছি, ছাত্র রাজনীতি করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আপনি বলেন, ভিসির বাড়িতে যে ঘটনা হলো...আগুন দেওয়া...পোড়ানো...লুটপাট করা...বেডরুমে ঢুকে সব তছনছ...মেয়েরা রাত একটা দেড়টার সময় সুফিয়া কামাল হল থেকে গেট ভেঙে বেরিয়ে গেলো...শামসুন্নাহার হল থেকে বের হয়ে এসেছে...বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে এসেছে...তারা মিছিল করে চলে যাচ্ছে। এই রাত্রিবেলা বিভিন্ন ধরনের লোক আছে একটা মেয়ের যদি একটা ক্ষতি হতো এর দায় দায়িত্ব কে নিতো? সারারাত আমি জাগা, আমাদের কিছু নেতৃবৃন্দ, ছাত্রনেতা সবাইকে পাঠালাম, আওয়ামী লগের নেতাদের পাঠালাম, শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, পুলিশকে বললাম, ফায়ার ব্রিগেড ঢুকতে দিচ্ছে না...যাক, সেগুলো ম্যানেজ করে এই মেয়েদের যার যার হলে নিরাপদে ঢোকার ব্যবস্থা করলাম। সকাল সাড়ে ছয়টার সময় যখন আমাকে জানানো হলো মেয়েদের হলে ঢোকানো হয়েছে তারপরে আমি আশ্বস্ত হই। তো এই মেয়েরাও কোটা চায় না। ভালো কথা। মুক্তিযোদ্ধাদেরও তো এখন চাকরি পাওয়ার মতো কেউ নেই। সবই তো মারা গেছে। তাও বলেছিলাম, মুক্তিযোদ্ধাদের যারা ছেলেমেয়ে, নাতি, বংশ পরম্পরা...তাদের জন্য কোটা থাক। কিন্তু, যারা আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে আমাদের সেক্রেটারি জেনারেল যখন মিটিং করলেন তখন সেখানে অনেকে বললেন আমি মুক্তিযোদ্ধার নাতি, আমরা চাই না কোটা। মেয়েরা বললো আমরা কোটা চাই না, আমরা কম্পিটিশন করেই আসবো। তো মেয়েদের মাঝে আমি এই কনফিডেন্স যখন দেখলাম যে তারা কম্পিটিশন করেই আসবে তাহলে আর কোটা থাকার দরকারটা কী? আর মুক্তিযোদ্ধার নাতিই বলে আমি চাই না, তাহলে তাদের জন্য কোটা রাখার দরকার আছে? আর এই কোটা থাকলেই খালি আন্দোলন, তাই কোটাও নাই, আন্দোলনও নাই। সংস্কারও নাই। যখন আমি বললাম কোটা থাকবে না, তখন বললো, না বাতিল চাইনি, সংস্কার চাইছি। আগে দাবি ছিল বাতিল, এরপরে সংস্কার। কোটা যদি না থাকে সংস্কারের প্রশ্ন উঠবে না। আর যদি কেউ কোটা চায় তাহলে কোটা চাই বলে আন্দোলন করতে হবে। সে আন্দোলন যদি ভালোভাবে করতে পারে তখন ভেবেচিন্তে দেখবো কী করা যায়। আন্দোলন ছাড়া আর কোনও কোটা দেবো না।’
আরও পড়ুন:
সাম্প্রদায়িক আচরণকারীরা বিকৃতমনা
জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই: শেখ হাসিনা
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী
সব দলই নির্বাচনে আসবে: প্রধানমন্ত্রী
যদি সমাবেশে মানুষ চায়, সে ব্যবস্থাও আমরা করে দেবো: প্রধানমন্ত্রী








