শাহজালালে ইলিয়াস কাঞ্চনের পিস্তল আর ১০ রাউন্ড গুলি

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ০০:০৪, মার্চ ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫২, মার্চ ০৭, ২০১৯

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরচট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে আসেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর নভোএয়ারের বুকিং কাউন্টারে গিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, তার সঙ্গে ৯ এমএম পিস্তল আর ১০ রাউন্ড গুলি আছে, যা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের স্ক্যানারে ধরা পড়েনি। তিনি পিস্তলটি সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যেতে যান। বিমানবন্দরের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

যদিও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দাবি, প্রথমবার স্ক্যানের সময় অস্ত্র থাকার কথা বলেননি এই চলচ্চিত্রাভিনেতা। দ্বিতীয়বার স্ক্যানের আগেও বলেননি। দ্বিতীয় স্ক্যানের সময় অস্ত্রটি মেশিনে ধরা পড়লে সঙ্গে অস্ত্র ও গুলি থাকার কথা স্বীকার করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে অস্ত্রটিসহ যেতে দেওয়া হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রথম স্ক্যানের সময়ই যে কারও বৈধ অস্ত্র থাকার ঘোষণা দেওয়া উচিত। বৈধতার প্রমাণপত্রও দেখানো উচিত।

ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো আরও অনেকেরই ব্যক্তিগত বৈধ অস্ত্র আছে। নিয়ম না জানা থাকলে তাতে ভুলত্রুটি হতেই পারে। কিন্তু, এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্ক্যানার অপারেটররা প্রথম সুযোগেই কারও ব্যাগে থাকা অস্ত্র ও গুলি ধরতে পারার মতো সক্ষম কিনা এতে উঠে এসেছে সেই প্রশ্নও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, ‘উনি (ইলিয়াস কাঞ্চন) একজন দায়িত্বশীল মানুষ। হয়তো সঠিক আইনটা জানা ছিল না বলে ভেতরে ঢুকে অস্ত্র সঙ্গে থাকার কথা বলতে চেয়েছেন। কিন্তু, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যদি কোনও সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে পড়ে তখন কী হবে?’

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ অথবা আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রবেশমুখেই যাত্রীদের দেহ তল্লাশি করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মীরা। একইসঙ্গে স্ক্রিনিং মেশিনে যাত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলোও তল্লাশি করা হয়। এরপর যাত্রী সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের বোর্ডিং পাস ইস্যু করার পর ব্যাগ ফের তল্লাশি করে উড়োজাহাজে ওঠানো হয়। একইসঙ্গে যাত্রীও মুখোমুখি হন দ্বিতীয় দফা দেহ তল্লাশির। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও যাত্রী উড়োজাহাজে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র এমনকি নেল কাটার বা কাচিও সঙ্গে নিতে পারেন না।

যাত্রীদের বৈধ অস্ত্র উড়োজাহাজে বহনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাবেক পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এম কে জাকির হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনও যাত্রী বৈধ অস্ত্র নিতে চাইলে বিমানব্ন্দরে প্রবেশের মুহূর্তেই ঘোষণা দিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে অস্ত্র জমা দিতে হবে। অথবা নিরাপত্তা কর্মীদের তত্ত্বাবধানে নিজের কাউন্টারে নিয়ে যাবেন। একইসঙ্গে অস্ত্রটি যে বৈধ তা প্রমাণের জন্য অস্ত্রের লাইসেন্সও দেখাতে হবে। এরপর যে এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করবেন সেই কাউন্টার থেকে অস্ত্র বহনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করবেন। এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা অস্ত্রটির ম্যাগজিন, গুলি আলাদাভাবে বাক্সে ভরে পাইলটের জিম্মায় বিমানে দেবেন। যাত্রা শেষে পাইলট নিরাপত্তা কর্মীদের মাধ্যমে যাত্রীর কাছে হস্তান্তর করবেন অস্ত্রটি।

ইলিয়াস কাঞ্চনের অস্ত্র বহন প্রসঙ্গে এম কে জাকির হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তার (ইলিয়াস কাঞ্চন) উচিত ছিল বিমানবন্দরে প্রবেশের সময়ই সঙ্গে অস্ত্র থাকার ঘোষণা দেওয়া। একইসঙ্গে স্ক্যানার অপারেটরদেরও বিষয়টি ধরতে পারার কথা। কারণ, কেউ ঘোষণা না দিলেও অস্ত্র শনাক্ত করা নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব।’

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ইলিয়াস কাঞ্চনকে ফোন করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এখন বিমানে আছি। বেশি সময় কথা বলতে পারবো না। আমার মনে হয় এ বিষয়গুলো মিডিয়ায় না আসাই ভালো।’

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) শাহ মো. ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘তার (ইলিয়াস কাঞ্চন) অস্ত্র ধরা পড়েনি, এটা ঠিক হয়নি। বরং সচেতন নাগরিক হিসেবে তার উচিত ছিল বিমানব্ন্দরে প্রবেশের সময়ই ঘোষণা করা যে সঙ্গে অস্ত্র আছে। তিনি (ইলিয়াস কাঞ্চন) তা করেননি। বরং বিমানে ওঠার আগে দ্বিতীয় ধাপে চেকিংয়ের সময় ধরা পড়ে অস্ত্রটি। তখন তিনি (ইলিয়াস কাঞ্চন) বলেন সঙ্গে অস্ত্র নিয়েছেন।’
অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রবেশমুখের স্ক্যানারে অস্ত্র শনাক্ত করতে না পারা প্রসঙ্গে শাহ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘বিমানবন্দরে দুই ধাপে চেক করা হয়। প্রথম ধাপই চূড়ান্ত নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক আছে বলেই অস্ত্রটি শনাক্ত করা গেছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরেও স্ক্যান ফাঁকি দিয়ে এক যুবক ঢুকে পড়ে একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছিল। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সে নিহত হওয়ায় বিষয়টি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ