আইনের বাইরে কোনও অভিযান পরিচালনা করেননি বলে দাবি করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শহারিয়ার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আমি সবসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। অভিযানের বিষয়ে আমার অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানেন। আমি আইনের বাইরে কখনো কোনও অভিযান পরিচালনা করিনি।’
মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন। এরআগে, সকালে মঞ্জুর শাহরিয়ারের বদলির আদেশ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বদলির আদেশ বাতিলের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ দাবি করেন, ‘মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইচ্ছামতো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতেন।’
তিনি দাবি করেন, ‘আড়ংয়ে অভিযানের আগেই তার বদলির আদেশ হয়। এরপর ভোক্তার ওই কর্মকর্তা ইল মোটিভেটেডলি কিছুটা প্রোপাগান্ডা করেছেন। জনমনে যেহেতু ভুল মেসেজ যেতে পারে সেজন্য আমরা আদেশটি বাতিল করেছি।’
তবে মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে যা আছে, আমি তার বাইরে কখনো কিছু করিনি।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব আরও দাবি করেন, ‘ওই কর্মকর্তার বদলির আদেশের ফাইলটি ২৯ তারিখ উত্থাপিত হয়। পরে সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আগেই তার বদলির অর্ডারটি হয়।’
তবে এই অভিযোগও অস্বীকার করেন মঞ্জুর শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমি বদলির আদেশটি কেবল ফেসবুকে দিয়েছি। সেখানে কোনও মন্তব্য করিনি।’
বদলির আদেশ বাতিলে খুশি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার খুশি-অখুশির কিছু নেই। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে যেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেখানেই কাজ করবো। আমি বদলির আদেশ বাতিলের অর্ডার টিভিতে দেখেছি। এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ বা খুশি হওয়ার কিছু নেই। আমি পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি পণ্যের কথা বলে মানুষের কাছে শতশত পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু কাগজ দেখতে চাইলে আমদানির কাগজ দেখাতে পারে না। অনেক পণ্যে দামের কোনও স্টিকার থাকে না। এসব পণ্য আদৌ বিদেশি কিনা, নাকি চকবাজারের? নাকি লাগেজ পার্টি নিয়ে আসে, তা স্পষ্ট নয়। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। বিদেশি পণ্য বিক্রি করে অথচ সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স কিছুই দেয় না।’
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে উত্তরার জসিমউদ্দিন রোডে আড়ংয়ের একটি আউটলেটকে একই পাঞ্জাবির দাম পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিগুন রাখায় সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। পাশাপাশি আউটলেটটি ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তার বদলির আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাকে খুলনায় বদলি করা হয়। আগামী ১৩ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বদলির আদেশটির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। পরে তার ওই বদলির আদেশের একটি কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নতুন কর্মস্থল সড়ক ও জনপদ অধিদফতর খুলনা জোন। তাকে এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করার তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ১৩ জুনের মধ্যে এই কর্মকর্তাকে তার বদলি কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে, অন্যথায় ১৩ জুন দুপুরে তার বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) মর্মে গণ্য হবেন।
মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার গত ৩০ মে আমদানি তথ্যবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার করায় রাজধানীর ধানমন্ডির পারসোনা ও ফারজানা শাকিলস মেকওভার সেলুনে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেন।
আরও পড়ুন:
ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তার বদলির আদেশ বাতিল
ভোক্তার ওই কর্মকর্তা ইল মোটিভেটেডলি প্রোপাগান্ডা করেছেন: জনপ্রশাসন সচিব
আড়ংকে জরিমানা করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় সেই কর্মকর্তা বদলি
‘বাবা তুমি ভালো কাজ করলে তোমাকে বদলি করা হলো কেন?’







