কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জলবায়ু অর্থায়নে অঙ্গীকার পূরণে সব দেশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:০০, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০২, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি-ফোকাস বাংলা)কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থায়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্স কক্ষ নম্বর ৭-এ গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনিঃসরণকারী দেশ, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও সামর্থের স্বল্পতার পরও বাংলাদেশ স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার এমন একটি প্ল্যাটফর্মের সৃষ্টি করবে, যেখানে উদ্ভাবনী ও অভিযোজনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ জলবায়ু পরিবর্তনের সহযোগিতামূলক বিভিন্ন কার্যপ্রণালী নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।’
এই বৈঠক আয়োজনের জন্য নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সময়ের সব থেকে গুরুতর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমাবর্ধমানভাবে আমাদের সভ্যতার ক্ষতি সাধন করছে। এটি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অস্তিত্বের হুমকি।’

শেখ হাসিনা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি)পঞ্চম মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (এআর-৫) পরিষ্কার বলা হয়েছে, ‘কার্বন নিঃসরণ কার্যকরভাবে বন্ধ বা হ্রাস করা সম্ভব না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বর্তমান শতাব্দীতে তীব্রতর হতে থাকবে।”

সরকার প্রধান বলেন,‘সম্প্রতি উত্তর আমেরিকার বন আমাজনে আগুন এবং বাহামা দ্বীপপুঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ডরিয়ান বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেয় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা বিধ্বংসী রূপ নিতে পারে। ২০১৮ ও ২০১৯ সাল জুড়েই জলবায়ু পরিবর্তন—বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রা নির্বাহে জনগণের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি ক্ষেত্রে সংগ্রাম করে যাচ্ছি। প্রথমত, ভবিষ্যতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ; দ্বিতীয়ত, যেসব অঞ্চলে পর্যাপ্ত ক্ষতি সাধিত হয়ে গেছে সেখানে অভিযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণ। কোটি কোটি মানুষের জীবন এবং জীবিকা ঝুঁকির মুখে থাকবে, যদি আমরা এই দুটি ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করতে না পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের (জিসিএ) প্রতিষ্ঠার একটি অংশ হতে পেরে বাংলাদেশ আনন্দিত; যা অভিযোজন ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে এবং বিদ্যমান সেরা অনুশীলনগুলো পরস্পরের মধ্য ভাগ করতে সহায়তা করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জিসিএ’র ঢাকা কার্যালয় স্থাপনের ঘোষণায় আরও আনন্দিত, কেননা আমাদের অভিজ্ঞতা এবং অঙ্গীকার নিয়ে জিসিএ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বড় আকারের কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অফিস অন্যান্য জিসিএ আন্তর্জাতিক অফিসসমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।’ অভিযোজন বিষয়ে তাদের সেরা অনুশীলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠক সেই অপার সম্ভবনাই দেখিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপ রাষ্ট্র, এটি জলবায়ু পরিবর্তন,পানিজনিত বিভিন্ন হুমকি ও চ্যালেঞ্জের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে জলবায়ুর চরমভাবাপন্ন বৈরী আচরণ এবং পরিবেশের অবনমন আমাদের টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।’
ব-দ্বীপ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভবনাকে তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ডেল্টা পরিল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করেছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।ডেল্টা মানেজমেন্ট অ্যাপ্রোচ গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্যই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’র স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা জিসিএ বাংলাদেশ, এটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন এবং অর্থসংস্থান করতে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

সূত্র: বাসস

 

/আইএ/

লাইভ

টপ