ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইসির ব্যাপক কর্মযজ্ঞ

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ১২:২৮, জানুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৬, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

ইভিএম (ফাইল ছবি)ভোটগ্রহণে ক্রমান্বয়ে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন)-এর দিকে ঝুঁকছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। এরইমধ্যে সব ধরনের নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার শুরু করেছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। সংসদীয় উপনির্বাচনসহ চলমান বেশিরভাগ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পুরোটাই ইভিএমে হবে। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইসি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। এই মেশিনের ওপর আস্থা আনতে ব্যাপক হারে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম, ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইভিএম সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ভোটের আগে কেন্দ্রগুলোতে ইভিএম প্রদর্শন করা হবে। সিনেমা হলগুলোতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আগে ইভিএমের বিষয়ে কনটেন্ট প্রচার করা হবে।

এর বাইরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জনবহুল স্থান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করা হবে। শুধু তাই নয়, ইভিএমের ব্যবহার বিষয়ে প্রায় ৪৬ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইসি। আর দুই সিটিতে ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রগুলোতে থাকবেন পাঁচ হাজারেরও বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ’ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঢাকা সিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এতে ইভিএম নিয়ে কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা উঠে আসে। ইভিএমে ভোট নিতে এখন পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কী কী কাজ বাকি রয়েছে—সেসব তথ্যও তুলে ধরা হয়। ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণে সব কর্মকর্তাকে আন্তরিক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ৪৫ হাজার ৭৭০ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার ইভিএম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৮ জন প্রিজাইডিং, ১৪ হাজার ৪৩৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ২৮ হাজার ৮৬৮জন পোলিং অফিসার রয়েছেন। তাদেরকে কয়েকটি ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, ভোটার এডুকেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডেমোনেস্ট্রেটরদের দু’দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ইভিএমের ওপরে ভোটারদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হবে। আগামী ২৮ জানুয়ারি সব কেন্দ্রে ভোটারদের জন্য মক ভোটিং (ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ) অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, দুই সিটিতে ভোটগ্রহণে ২৮ হাজার ৮৬৮টি ইভিএমের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১৫ হাজার ৬৯২টি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৩ হাজার ১৭৬টি মেশিন থাকবে। আর ভোটগ্রহণ, প্রশিক্ষণ ও ডেমোনেস্ট্রেশন মিলিয়ে ইভিএমের প্রয়োজন হবে ৩৪ হাজার ৮৬৯টি।

জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রে কারিগরি সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে দু’জন করে সার্জেন্ট বা করপোরাল বা ল্যান্স করপোরাল অথবা সৈনিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, ৫২ জন জেসিও ও ২৭ জন অফিসারও মাঠে থাকবেন। ইতোমধ্যে দুই সিটির জন্য সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচ হাজার ৫৩৮ সদস্য নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

ব্যাপক প্রচারের সিদ্ধান্ত

জানা গেছে, ইভিএম নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাবে নির্বাচন কমিশন। ঢাকার দুই সিটির প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে মোট ৫ হাজার ২০০ ও প্রতি কক্ষে একটি করে মোট ১৪ হাজার ৬০০টি ফেস্টুন লাগাবে ইসি। এছাড়া, ইভিএম বিষয়ক ৫ লাখ ৭০ হাজার লিফলেট প্রচার করা হবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইভিএম বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হবে। এছাড়া, মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের হাতে ৯০ হাজার লিফলেট দেওয়া হবে। স্কুল, কলেজ, শপিং মলসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানেও বিতরণ করা হবে। এছাড়া, পত্রিকা, টেলিভিশন ও ডিজিটাল বিলবোর্ডে ইভিএম বিষয়ক প্রচার করা হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সব সিনেমা হল ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইভিএম নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া, মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে এসএমএস  দিয়ে ভোটারদের ইভিএম ভীতি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় দূর করতে ব্যাপক প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএম প্রদর্শন করা হবে, যেন সাধারণ মানুষ এ মেশিনে কীভাবে ভোট দেবেন, তা জানতে পারেন। ইভিএম নিয়ে কারও মধ্যে কোনও প্রশ্ন থাকলেও তারা যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন।’

/এমআর/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ