প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফরে গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য ও অভিবাসন ইস্যু

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০৭:৪৮, জানুয়ারি ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪২, জানুয়ারি ১৭, ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্বিপক্ষীয় সফরে ইতালি যাচ্ছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্টের আমন্ত্রণে এ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে, সামরিক সহযোগিতা ও জ্বালানি খাতকে আলোচনায় প্রাধান্য দিতে আগ্রহী ইতালি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ফরেন অফিস কনসালটেশন, উভয় দেশের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সহযোগিতাসহ অন্যান্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার এবং গত বছর লন্ডন সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউরোপে কর্মরত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের সম্পর্কোন্নয়নে আরও কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।’ বিভিন্ন কারণে ইউরোপের মধ্যে ইতালির গুরুত্ব অন্যতম। সে কারণেই   সফরের মাধ্যমে বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান।

রাজনৈতিক সম্পর্ক

এর আগে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনসহ অন্যান্য দেশে প্রধানমন্ত্রী সফর করলেও তৃতীয় দফায় সরকার গঠনের পর ইউরোপে এটাই শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপকে আমরা কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছি, এই সফরের মাধ্যমে অন্যান্য দেশগুলোকেও সে বিষয়ে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাই।’

এই কর্মকর্তা আরও  বলেন, ‘আমরা চাই আরও বেশি সংখ্যায় ইউরোপীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশ সফর করুক। আর আমাদের রাজনৈতিক নেতারাও বেশি বেশি ইউরোপীয় দেশগুলো সফর করুক।’ তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন রাশিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ সফর করেছেন।’

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ১৬০ কোটি ডলারের বেশি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমরা তৈরি পোশাক সবচেয়ে বেশি রফতানি করে থাকি। এরপর আছে চামড়াজাত পণ্য।’ তিনি জানান, ইতালি থেকে আমদানির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ডলার এবং এর মধ্যে বেশিরভাগ তৈরি পোশাক শিল্পের যন্ত্রপাতি।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আরও বাণিজ্য বাড়াতে চাই। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ইতালিয়ান বিনিয়োগকে উৎসাহিত করি।’

অভিবাসন

দুই দেশের জন্য অভিবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কেননা, ইতালির হিসাব অনুযায়ী, সেদেশে প্রায় একলাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছে। এ বিষয়ে সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের পরেই ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি আছে ইতালিতে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধপথে ওই দেশে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতালিতে দক্ষ কর্মীর স্থায়ী চাহিদা রয়েছে, যার একটি অংশ বাংলাদেশ মেটাতে পারে। আমরা বৈধপথে ওই দেশে কর্মী পাঠাতে চাই। দক্ষতা বাড়াতে তারা আমাদের সহায়তা দিতে পারে। ইতালি গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পর বাংলাদেশি কর্মীরা ফের দেশে ফেরতও আসবে। এজন্য একটি মেকানিজম রয়েছে।’

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতালিতে পরিশ্রমী হিসেবে বাংলাদেশিদের যথেষ্ট সুনাম আছে এবং কর্মী হিসেবে বাংলাদেশিরা অনেক দক্ষ। এজন্য আমরা চাই, বৈধপথে শ্রমিক পাঠাতে।’

উল্লেখ্য, আগে ইতালিতে বৈধপথে কৃষি শ্রমিক পাঠানোর একটি চুক্তি ছিল। ওই চুক্তির অধীনে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি সেখানে গেলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত এসেছে ১০০ জনেরও কম। এ কারণে ২০১২ সাল থেকে ওই চুক্তি বাতিল করে দেয় রোম।

সামরিক সহযোগিতা

ইউরোপের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় ইতালি। এ বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের প্রতি খেয়াল রেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’এ বিষয়ে কোনও চুক্তি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

 

/আইএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ