বড় অবকাঠামো নির্মাণের কারণেই ঢাকার বায়ুমান খারাপ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩৭, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১৫, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

রাজধানীতে ধুলারোধী যথাযথ বেষ্টনী ছাড়াই মেট্রোরেলের মতো বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ হওয়ায় শহরজুড়ে বায়ুমান খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে।গত ৪ বছরে ঢাকার বায়ুর মান বেশি খারাপ হয়েছে। বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ফরিদপুর-১ আসনের মনজুর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমন তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, পরিবেশ অধিদফতর ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও শিল্পঘন শহরে সার্বক্ষণিক বায়ুর গুণগতমান পরিমাপ করছে। পরিমাপকৃত বায়ুর গুণগত মান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বাষুদূষণের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বেড়ে যায়।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা শহরে শুষ্ক মৌসুমে শুধু সূক্ষ্ম বস্তুকণার পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার বাইরে থাকে। অন্যান্য দূষক যেমন: সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন-মনোক্সাইড ইত্যাদি সারা বছর মানমাত্রার মধ্যে থাকে।

তিনি বলেন, ২০০২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বায়ুমানের উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ এই তিন বছর বায়ুমান বেশি খারাপ হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনটি ঘটেছে। বায়ুদূষণের উৎস হিসাবে ইটভাটা, যানবাহন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম, পৌরবর্জ্য ও বায়োমাস পোড়ানো এবং ট্রান্সবাউন্ডারি প্রভাবকে দায়ী করা হয়।

শাহাব উদ্দিন আরও জানান, আইনের আওতায় পরিবেশ অধিদফতর দেশে বিদ্যমান ইটভাটাগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে অভিযান পরিচালনা করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৬শ’ অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হবে।

বায়ুদূষণ

পরিবেশমন্ত্রী জানান, মাটি ব্যবহার করে পোড়ানো ইট উৎপাদন ও ব্যবহার শূন্যতে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের মধ্যে শতভাগ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। পরবর্তীতে সব বেসরকারি কাজে ইটের বিকল্প ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মাটি ব্যবহার করে পোড়ানো ইটের উৎপাদন ও ব্যবহার শূন্যে নেমে আসবে।

সরকার দলীয় শাহে আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন জানান, পরিবেশের জন্য চরম ক্ষতিকর নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন বন্ধে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে পলিথিন জব্দ, জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের বাজার কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা পলিথিন ব্যবহারে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে পলিথিনের বিকল্প বাজারে সরবরাহের দাবি জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোবারক আহমেদ খান পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পলিথিন ‘সোনালী ব্যাগ’ আবিষ্কার করেছেন। প্রচলিত পলিথিনের বিকল্প হিসেবে বায়োডিগ্রেডেবল পলিথিন বাজারজাতকরণ এবং ব্যবহৃত পলিথিন রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পূর্ণ ব্যবহার করার উদ্যোগটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

/ইএইচএস/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ