ফাইল পৌঁছালেই খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৪, মার্চ ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৩, মার্চ ২৪, ২০২০

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালবিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেই সুপারিশ এসে পৌঁছায়নি। মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদন নিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করার নির্দেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উনি (আইনমন্ত্রী) যা বলেছেন ঠিক আছে। কিন্তু আপনাদের আর একটু অপেক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিগন্যাল নিয়ে প্রক্রিয়া করতে হবে। উনার ফাইল এখনও অ্যাপ্রুভ হয়নি। আইনমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই বলেছেন। তবে আইনমন্ত্রীর ফাইল এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। না আসা পর্যন্ত তো ওয়েট করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির সুপারিশের ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এলে একটি সারাংশ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী ওই ফাইলে অনুমোদন দিলে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। খালেদা জিয়া ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেদিন থেকে তার আবেদন গ্রহণ করবে, সেদিন তিনি মুক্তি পাবেন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ায় দুই শর্তে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। সরকার মানবিক কারণে সদয় হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা (উপধারা -১) অনুযায়ী এটা আইনি প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়া ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেদিন তার আবেদন গ্রহণ করবে, সেদিন তিনি মুক্তি পাবেন।

আনিসুল হক বলেন, তার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে এবং ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না—এই শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে।

তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগে ৬ মাস যাক, তারপর দেখা যাবে। তিনি বলেন, এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। সেটা তার অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তবে শর্ত হচ্ছে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। ওই বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। ফের ফিরিয়ে নেওয়া কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর বিকাল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে আনা হয় তাকে।

চূড়ান্তভাবে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে। খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার।  তিনি জানান, খালেদা জিয়া ১ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। সেদিন দুপুর ২.১৫ মিনিটে তিনি ভর্তি হন। আর তার পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনটিতে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রথমে পাঁচ বছরের এবং পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। এই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আরও পড়ুন:

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই খালেদা জিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত

আগামীকাল মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া: স্বরাষ্ট্র সচিব

ফাইল পেলে খালেদা জিয়াকে জানানো হবে: বিএসএমএমইউ পরিচালক

ফিরোজায় ধোয়ামোছা শেষ, খালেদা জিয়াকে বরণের প্রস্তুতি

মুক্তি পেয়ে ফিরোজাতেই উঠবেন খালেদা জিয়া

নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ মির্জা ফখরুলের

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া সরকারের শুভবুদ্ধি: আ স ম রব

/এসএমএ/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ