জাতীয় কবি নজরুলের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালিত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:১২, মে ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৫, মে ২৫, ২০২০

কাজী নজরুল ইসলাম/ ছবি: সংগৃহীতকরোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল ১১টায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কবির মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাঁশরী, জাসাস এবং বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এর আগে, জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীতে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে বিদ্রোহী কবি নজরুল জন্মেছিলেন। তার ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া। তার বাবা কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুন।

সকালে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব করোনার মহামারিতে আক্রান্ত। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র পাঁচ জন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গভীর মমতা ও ভালোবাসা থেকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন এবং জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আজ কবির ১২১তম জন্মবার্ষিকী, এই দিনে তাকে আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।’

এর আগে, জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীতে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তারই প্রতিফলন আমরা পাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম ও কর্মে। বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে নজরুলকে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অসামান্য ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুলের আজীবন সাধনা ছিল সমাজের শোষিত-নিপীড়িত মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি এবং মানুষের সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি অর্জন। তার সাহিত্যকর্মে উচ্চারিত হয়েছে পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের বাণী। নজরুলের ক্ষুরধার লেখনী যেমন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তেমনি তার বাণী ও সুরের অমিয় ঝরনাধারা সিঞ্চিত করেছে বাঙালির হৃদয়কে। “বিদ্রোহী” কবিতায় কবির বলিষ্ঠ উচ্চারণ, “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আরেক হাতে রণ-তূর্য”।’

নজরুলকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। নারীর অধিকারকে করেছেন সমুন্নত। তিনিই প্রথম বাঙালি কবি যিনি ব্রিটিশ অধীনতা থেকে ভারতবর্ষকে মুক্ত করার জন্য স্বরাজের পরিবর্তে পরিপূর্ণ স্বাধীনতার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন। নজরুল জাতি-ধর্ম ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিলেন সাহসের প্রতীক। তিনি প্রত্যয়ী ও বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে মুক্তি সংগ্রামে অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করেছিলেন। তার সাহিত্যের বিচিত্রমুখী সৃষ্টিশীলতা আমাদের জাতীয় জীবনে এখনও প্রাসঙ্গিক। কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত শোষণ, বঞ্চনা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে মুক্তির দীক্ষাস্বরূপ।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার বিবৃতিতে বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বাঙালির চিরায়ত মনন ও চেতনার কবি। বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল পরিচিত ছিলেন প্রেম-দ্রোহ ও সাম্যের কবি হিসেবে। তার ক্ষুরধার লেখনীতে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধমন্ত্র শানিত ছিল। “চির উন্নত মম শির” উদ্ধৃত করে কবি সারা জীবন বিদ্রোহ ও সংগ্রাম করেছেন শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে।’

তিনি বলেন, ‘কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কবি গেয়েছেন মানবতার জয়গান। ব্রিটিশ শাসকদের শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে তিনি বাঙালির জাতীয়তাবোধের জাগরণ ঘটিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “বাংলা বাঙালির হোক, বাংলার জয় হোক, জয় বাংলা”। সাহিত্যের কবি থেকে রাজনীতির কবি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে “জয় বাংলা” হয় বিজেতা বাঙালির স্লোগান।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি। তার ক্ষুরধার লেখনীতে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে বিপ্লবের মন্ত্র উচ্চারিত হয়। বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কারাগারে নির্যাতন সহ্য করতেও দ্বিধা করেননি। তার কবিতা, গানে মানবতা ও সাম্যের বাণী বিধৃত হয়েছে। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার, সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। তাই নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। তিনি উপমহাদেশের স্বাধীনতার প্রথম বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার কবিতা ও গান আমাদের মুক্তি সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি এই মহান কবির বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’

/এইচএন/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ