করোনায় আরও ৪২ জনের মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৪৩, জুলাই ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪২, জুলাই ০৩, ২০২০

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৪২ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৯৬৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১১৪ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬০৬ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬৮ হাজার ৪৮ জন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, দেশে এখন মোট ৭১টি পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ফলাফল এসেছে ৬৩টি পরীক্ষাগার থেকে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েয়ে ১৪ হাজার ৭৮১টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫০টি। এরমধ্যে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১১৪ জন।

২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ, এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৬ শতাংশ।

নাসিমা সুলতানা জানান, মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিবেচনায় ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাত জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিন জন।

মারা যাওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১১ জন।

অঞ্চল বিবেচনায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চার জন, বরিশাল বিভাগে একজন এবং খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে তিন জন করে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, দেশের হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় ভর্তি আছেন চার হাজার ৭০৮ জন করোনা রোগী, আর আইসিইউতে আছেন ২০৯ জন। সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৮ জন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬৬৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮৭৭ জন, মুক্ত হয়েছেন ৬৮৭ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ২৯ হাজার ৩৭৯ জন। আর আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৩২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৯৪৭ জন।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭১৪ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন তিন লাখ ৭১ হাজার ৯০৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৬৬ জন। এ পর্যন্ত মোট মুক্ত হয়েছেন তিন লাখ আট হাজার ৩৪৭ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৫৫৬ জন।

করোনাতে মারা যাওয়াদের ৮৫৫ জনই ষাটোর্ধ্ব

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেলেন এক হাজার ৯৬৮ জন। এর মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী রয়েছেন ৮৫৫ জন। এছাড়া মোট মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৫৭১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৯০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৪৭ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭০ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৩ জন এবং শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১২ জন রয়েছেন। শুক্রবার কোভিড -১৯ নিয়ে অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

দেশে করোনাতে আক্রান্ত হওয়া প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। তার বয়স ছিল ৭০ বছর। তিনি বিদেশ থেকে আসা ও সংক্রমিত একজনের মাধ্যমে করোনাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেন তখন জানিয়েছিলেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ( আইইডিসিআর)।

করোনা নিয়ে নিয়মিতভাবে তথ্য জানানো আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সেদিন বলেছিলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তার হার্টে স্টেন্ট পরানো ছিল। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমরা বারবার বয়স্কদের বিশেষ নিরাপত্তার জন্য বলছি।’

আজ অনলাইন বুলেটিন শেষ করার আগে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, 'নিজের সুরক্ষা নিজের হাতে। যেসব স্বাস্থ্যবিধি বলা হচ্ছে, সেগুলো সবসময় মেনে চলার অনুরোধ করছি। নিজে সুস্থ থাকুন এবং পরিবারের সবাইকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখুন।'

/জেএ/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ