চলতি সপ্তাহেই জুন মাসের মজুরি পাচ্ছেন পাটকল শ্রমিকরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০১, জুলাই ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৮, জুলাই ০৬, ২০২০

পাটকল‘মজুরি কমিশন-২০১৫’ অনুযায়ী পাটকল শ্রমিকদের জুন মাসের মজুরি চলতি সপ্তাহে তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অওতাধীন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন আলিম জুটমিল বাদে অন্যান্য পাটকল শ্রমিকদের ‘জাতীয় মজুরি স্কেল,২০১৫’ অনুযায়ী জুন মাসের বকেয়া মজুরি পরিশোধে ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

রবিবার (৫ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয় এ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হালদার। তিনি জানিয়েছেন, বরাদ্দকৃত এ অর্থ শ্রমিকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চেকের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয় 'পরিচালন ঋণ' বা 'অপারেশন লোন' হিসেবে এ টাকা বরাদ্দ করেছে। বরাদ্দকৃত অর্থ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বিজেএমসি’র মিলগুলোর জন্য বর্ণিত খাত ছাড়া অন্য কোনও খাতে ব্যয় করা যাবে না। বিজেএমসি শ্রমিকদের প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্টের (অ্যাকাউন্ট পে চেক) মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে।

বরাদ্দকৃত অর্থ বিজেএমসি’র অনুকূলে 'পরিচালন ঋণ' বা 'অপারেশন লোন' হিসেবে গণ্য হবে, যা আগামী ২০ বছরে (৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ) ৫ শতাংশ সুদে ষাণ্মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আর এ জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিজেএমসিকে একটি ঋণচুক্তি সম্পাদন করতে হবে। চিঠিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, বরাদ্দ দেওয়া অর্থ কেবল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি খাত ছাড়া অন্য কোনও খাতে ব্যয় করা যাবে না। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকারের বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বিধিবহির্ভূতভাবে কোনও অর্থ পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

উল্লেখ্য, পাটকল শ্রমিকদের নোটিশ মেয়াদের অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের ৬০ দিনের মজুরিও উভয় মাসে যথারীতি পরিশোধ করা হবে। পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ অবশিষ্ট সব পাওনার ৫০ শতাংশ নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ নিজ নিজ নামে সঞ্চয়পত্র আকারে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।

সব ক্ষেত্রেই মজুরি কমিশন-২০১৫-এর ভিত্তিতেই পাওনা হিসাব করা হবে। ২০১৪ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের (৮ হাজার ৯৫৪ জন) প্রাপ্য সব বকেয়া, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের (২৪ হাজার ৮৮৬ জন) প্রাপ্য বকেয়া মজুরি, শ্রমিকদের পিএফ জমা, গ্র্যাচুইটি এবং একই সঙ্গে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ হারে অবসায়ন সুবিধা একসঙ্গে শতভাগ পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারি বাজেট থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

অবসায়নের পর মিলগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে পিপিপি/যৌথ উদ্যোগ/জি টু জি/ লিজ মডেলে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন মডেলে পুনরায় চালু হওয়া মিলে অবসায়নকৃত বর্তমান শ্রমিকেরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে এসব মিলে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। সব শ্রমিককে পুনর্বাসন করা হবে।

/এসআই/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ