ভারী বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:২৮, জুলাই ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০, জুলাই ১০, ২০২০

সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি

ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) থেকে নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে ১১/১২ জুলাই থেকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পানি নেমে যাওয়া এলাকাগুলোও ফের প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া ১৫ জুলাইয়ের পর কোনও কোনও এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন বন্যা ও আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১০ জুলাই থেকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বাড়তে শুরু করবে এবং কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় এই নদীগুলোর পানি ১৩ জুলাইয়ের পর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া, ১৫ জুলাইয়ের দিকে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বেড়ে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এদিকে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানিও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তা বিপদসীমার ওপরে যাবে না। ভারী বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এখনও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছি না। কিন্তু এত নিশ্চিত হয়েও বলা সম্ভব নয়। আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে বন্যার পরিস্থিতি। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি এসে বলা যাবে—বন্যার পরিমাণ কতখানি বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, ‘এখন বন্যার পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। আগামীকাল বা পরশু (শুক্র ও শনিবার) থেকে আরও বেশ কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ১১/১২ জুলাই থেকে বন্যা পরিস্থিতি শুরু হতে পারে।’

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের গাণিতিক আবহাওয়া মডেলের তথ্য অনুযায়ী—আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। ফলে এ সময় দেশের উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়তে শুরু করবে। আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি কমলেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলের নদীগুলোর পানিও বাড়া শুরু হতে পারে। গঙ্গা, পদ্মার পানি স্থিতিশীল আছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

আগামী ১০ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আবারও ১০ জুলাই থেকে বাড়তে শুরু করতে পারে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় এই নদীগুলোর পানি ১৩ জুলাইয়ের পর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির এখন স্থিতিশীল। আগামী তিন দিন রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে পানি একই অবস্থায় থাকবে। মধ্য জুলাই থেকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। 

ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানিও বাড়তে পারে। তবে তাতে পানি বিপদসীমার ওপরে ওঠার শঙ্কা নেই। 

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায়, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের কিছু স্থানে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। অন্যদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু জায়গায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ মাসে থেমে থেমে প্রায়ই বৃষ্টি হতে পারে। এখন যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তা আগামী কয়েকদিন স্থায়ী হবে।  আগামী ৪ থেকে ৫ দিন এই বৃষ্টি হতে পারে। তবে টানা বৃষ্টি হবে না। থেমে থেমে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বৃষ্টির বেশিরভাগ হবে উত্তরাঞ্চলের দিকে। সেসব অঞ্চলে পরিমাণেও বেশি বৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’ বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতেও পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ১৪ দিন ধরে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১১টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। গত ৭ জুলাই থেকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করে। এ অবস্থায় আবারও বন্যার  আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে নতুন করে ২৩ জেলায় বন্যা দেখা দিতে পারে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এই ২৩ জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ