ঢাকায় মুজিববাদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৭:৫৯, আগস্ট ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৬, আগস্ট ০৩, ২০২০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৩ আগস্টের ঘটনা।)

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে মুজিববাদ বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া দালাল আইন সংশোধন করে শাস্তির সর্বনিম্ন মেয়াদ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য মহা-প্রকল্প প্রণয়নের দাবি, পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যক্রম গ্রহণসহ বন্যার কারণে দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার খবরে এসব তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়,  বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির বৈঠক গভীর রাতে শেষ হয়। এর আগে ১৯ জুলাই সাংগঠনিক কমিটির বৈঠক শুরু হয়। ৩০ জুলাই থেকে পহেলা আগস্ট পর্যন্ত গণভবনে সাংগঠনিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জেলা সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মালেক উকিলসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানসহ প্রায় ৮৪ জন বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন।

যৌথভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণের সূচনা

বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নদীগুলোর  উজানে পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করবে বলে জানানো হয়। ১৯৭২ সালের ৩ আগস্ট দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনে এ প্রস্তাবের কথা জানা যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের পানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত নদী জরিপ দল চলতি মাসের শেষ নাগাদ জরিপ কাজ শেষ করবে বলেও বাসসের খবরে বলা হয়। আসামের কাছাড় জেলার কুশিয়ারা নদীর উজানে কোথায় কোথায় পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ সম্ভব—এই দল প্রথমে তা চিহ্নিত করবে। তারপর তারা সিলেটের নদীগুলোর গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও পরীক্ষা করবে। নির্মিত হলে এসব সংরক্ষণাগারের নদীর উজানে পানির একটা অংশ ধরে রাখা হবে। শীতকালে নদীগুলোর পানি যখন কমে যাবে তখন এই সংরক্ষণাগারের পানি ছেড়ে দেওয়া হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ দফতর সূত্রে আরও বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সুরমা-কুশিয়ারা, তিস্তা গোমতী ও ভারতের উৎস এবং শাখা ও উপনদীগুলোকে নিয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা কাজ সমাপ্ত হতে আরও ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগবে।

বাংলাদেশ-ভারত পাসপোর্ট ভিসা চালু হচ্ছে

১৯৭২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ-ভারত পাসপোর্ট-ভিসা চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বছর পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদানে দুদেশ সম্মত হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়। বাসসের খবরে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের পদস্থ কর্মকর্তাদের তিন দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়েছে। সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ঢাকায় প্রদত্ত এক যুক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের সীমান্ত জেলা কর্তৃপক্ষ পরস্পরের সঙ্গে কী পদ্ধতিতে সহযোগিতা করবেন সে সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান জোরদার এবং সীমান্ত দিয়ে বেআইনি চলাচল বন্ধ করা সম্পর্কেও আলোচনা হয়।

সুস্থতার জন্য লন্ডন থেকে জেনেভা যাবেন বঙ্গবন্ধু

লন্ডনে ক্লিনিকে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্রুত আরোগ্য লাভ করছেন। আর ১০ দিনের মধ্যে তিনি ক্লিনিক ত্যাগ করবেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। একইসঙ্গে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু সুস্বাস্থ্যের জন্য লন্ডন থেকে জেনেভা যাবেন। তিনি কখন যাবেন এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করবেন তাও ঠিক হয়নি। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেক্স হিউম তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুকে অবহিত রাখার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন নানা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই উদ্দেশে ঢাকার সঙ্গে দ্বিমুখী যোগাযোগের জন্য টেলেক্ট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিরোধীদলীয় নেতা উইলসন এবং আগাখানসহ অনেকেই শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন।

সারাদেশে প্রার্থনা দিবস

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ৪ আগস্ট দেশব্যাপী জাতীয় প্রার্থনা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ৩ আগস্ট প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর আশু রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার জন্য দেশের জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

/এমআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ