বেদখলে থাকা বনভূমির তথ্য চায় সংসদীয় কমিটি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১৮, আগস্ট ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২০, আগস্ট ১০, ২০২০

বন বিভাগের রেকর্ডভুক্ত নিষ্কন্টক এক লাখ একরেরও বেশি বেদখলে থাকা বনভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। ওই প্রতিবেদনে বেদখলে থাকা বনভূমির সর্বশেষ অবস্থা, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া, মামলা পরিচালনায় নিয়োগকৃত আইনজীবীদের ভূমিকা, দখলদার উচ্ছেদে কতবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে কমিটি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটর বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাগজপত্রে কোনও ধরনের সমস্যা নেই, বনবিভাগের এমন এক লাখ একরের বেশি জমি বেদখলে রয়েছে। এই এক লাখ একর ‍পুরোপুরি কাগজে-কলমে বনের জমি। এর বাইরেও প্রচুর বনভূমি দখলে রয়েছে। আমরা এই নিষ্কন্টক জমির বিষয়টি আগে দেখতে চাই। এজন্য মন্ত্রণালয়কে এ সম্পর্কে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমরা দেখতে চাই, দখলদারদের উচ্ছেদে কতবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। এই কাজে জড়িত আইনজীবীদের কাজেরও মূল্যায়ন করতে চাই।’

গত মাসে কমিটির বৈঠকেও বেদখলে থাকা বনভূমি নিয়ে আলোচনা করে সংসদীয় কমিটি।

সাবের হোসেন বলেন, ‘অনেক জমি সিএস খতিয়ানে বন বিভাগের মালিকানায় ছিল। পরে এসএ খতিয়ানে সেটা আবার জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়। ডিসি অফিস সেগুলো আবার বিভিন্নভাবে লিজ দিয়েছে। এগুলো ফেরত আনতে হবে। সেজন্য আইনি প্রক্রিয়া বের করতে বলা হয়েছে।’

গাছের চারা রক্ষায় সামাজিক সম্পৃক্ততা চায় কমিটি

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে এককোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচিতে সামাজিক সম্পৃক্ততা চেয়েছে সংসদীয় কমিটি।

গত ১৬ জুলাই মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে এককোটি চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

এক কোটি গাছের চারার মধ্যে ৫০ শতাংশ ফলজ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধণকারী। কোনও বিদেশি প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হবে না। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ২০ হাজার ৩২৫টি করে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ বিতরণ করতে বন বিভাগের নার্সারিগুলোতে সেগুলো উৎপন্ন করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে ৩৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৩টি চারা রোপণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, রোপণ করা গাছের শতকরা ৮০ ভাগ বেঁচে থাকে। সেই হিসাবে মুজিববর্ষের এক কোটি গাছের মধ্যে ৮০ লাখ বাঁচার কথা উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এই যে গাছ লাগানো হচ্ছে, এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভাবতে হবে। কমিটি বলেছে, জিআইএস ম্যাপিং করে কোন এলাকায় কী ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে হবে। এর অর্থনৈতিক দিকেরও মূল্যায়ন করতে হবে। এসব গাছ রক্ষায় বিভিন্ন সমাজিক সংগঠনকে যুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ  কাজে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।  তাহলে গাছগুলো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে এই গাছের অর্থনৈতিক বেনিফিটটাও হিসাব করতে হবে।’

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপণে যাতে কোনও আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা, গাছের চারা পরিচর্যা ও  রক্ষণাবেক্ষণে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সম্পৃক্ত করা যায় কিনা, তার সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

পরিবেশ গবেষণা মেলার সুপারিশ

বৈঠকে পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ের গবেষণাকে সরকারের কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রতিবছর ‘পরিবেশ গবেষণা মেলা’ আয়োজনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিট। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এই মেলার আয়োজন করা যায় কিনা সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সাবের হোসেন বলেন, ‘পরিবেশ নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। কিন্তু সরকার সবসময় সেটা জানতে পারছে না। এই গবেষণাগুলো সরকারের তথা পরিবেশ রক্ষায় কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য এখানে গবেষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সেজন্য এই মেলার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এ মেলা হলে পরিবেশ অধিদফতর বিভিন্ন গবেষকদের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবে।’

সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, মো. রেজাউল করিম বাবলু এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন অংশ নেন।

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ