‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ৭১ এর রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:০৪, আগস্ট ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৮, আগস্ট ১১, ২০২০

ওবায়দুল কাদেরআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ৭১-এর রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ। দুই দেশ বন্ধুত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।’

তিনি আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সমকালীন বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। এখানে মসজিদ, মন্দির, পূজামণ্ডপ পাশাপাশি। আবহমানকাল থেকে এদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা দিয়েই আমরা গড়তে চাই এদেশের সমৃদ্ধির সোপান।’

দেশের উন্নয়নে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও দেশই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক রেখে এগোতে পারে না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া থাকলে অনেক অমীমাংসিত ইস্যু সহজেই সমাধান সম্ভব, যার প্রমাণ বাংলাদেশ ও ভারত।’

এর প্রমাণস্বরূপ শান্তিপূর্ণভাবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যা ছিটমহল বিনিময় কথা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের সমুদ্র জয়ের মামলায় ভারত আপিল না করে বন্ধুসুলভ যে আচরণ করেছে তা সম্পর্কের সূত্রকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের যে সেতুবন্ধন তৈরি  হয়েছে তার মাধ্যমে তিস্তা সমস্যা ও অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি এবং সেই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য সমস্যাও সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের।

উন্নয়ন, মানবিকতা আর সম্প্রীতির শত্রু সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র হচ্ছে সামাজিক সখ্য এবং ঐক্য। একতা ধরে রেখেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। হীনমন্যতায় ভুগবেন না। এদেশে সবার সমান অধিকার।’

এদেশে যারা হত্যা-ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সূচনা ও লালন করেছিল এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে বড় করে তুলেছিল তারাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী সদস্যদের জীবন ও সম্পদের ওপর বারবার আঘাত এনেছে অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘তাদের অপচেষ্টা এখনও চলছে। ইতোমধ্যেই তাদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

/এমএইচবি/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ