আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উদ্যোগ বঙ্গবন্ধুর

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৭:৫০, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫০, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০



দৈনিক বাংলা(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দুর্নীতিপরায়ণ গণপরিষদ সদস্য এবং পরিবারকে উচ্ছেদে অভিযান শুরু করা হয়। এই অভিযানের প্রথম দফায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও গণস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দল থেকে ১৯ এমসিএ-কে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করা হয়।  বহিষ্কৃত গণপরিষদ সদস্যরা হলেন—  ঢাকা জেলার আব্দুল হাকিম মাস্টার, মাজেদ আলি মুক্তার, রংপুরের আবু সুলাইমান মণ্ডল, জাহিদুর রহমান, তাহেরুল ইসলাম খান, রাজশাহীর রিয়াজ উদ্দিন আহমদ ও আব্দুস সালাম, পাবনার কে বি এম আবু হেনা, কুষ্টিয়ার জহুরুল হক, যশোরের মোশাররফ হোসেন, খুলনার  হাবিবুর রহমান খান, ফরিদপুরের কাজী হেদায়েত হোসেন, সিলেটের মাসুদ আহমদ চৌধুরী, কাজী সিরাজ উদ্দিন আহমদ, কুমিল্লার গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ হাশেম, নোয়াখালীর সাখাওয়াত উল্লাহ, চট্টগ্রামের মির্জা আবু মনসুর ও আখতারুজ্জামান চৌধুরী।

দলীয় বক্তব্যে কারণ উন্মোচণ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান গণপরিষদ সদস্যদের দল থেকে বহিষ্কারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এসব গণপরিষদ সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘এসব সদস্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি আরও জানান যে, দলকে দুর্নীতিবাজ গণপরিষদ সদস্য ও কর্মীদের থেকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন হলে আরও এনসিএ এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের বহিষ্কার করা হবে। উল্লেখযোগ্য যে, রাষ্ট্রপ্রধানের জারিকৃত এক অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, কোনও গণপরিষদ সদস্য তার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য পদ হারালে তার গণপরিষদের সদস্য পদও বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে ১৯ জন গণপরিষদ সদস্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হওয়ায়, স্বাভাবিকভাবেই  গণপরিষদেও তাদের সদস্য পদ বাতিল হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী যুব নেতাদের মতে, একশ্রেণির এমসিএ দলীয় কর্মী ও নেতা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি  ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে জনগণের সংগ্রামী প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ ও দলের নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন ও দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী চক্রের হাতকে শক্তিশালী করছিল।

দৈনিক বাংলাউপমহাদেশের স্বার্থে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ বলেন যে, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে তুলে ধরবেন।’ জাতীয় সংবাদপত্রের কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে,‘ সাধারণ অধিবেশন বাংলাদেশের সদস্যদের আবেদনপত্র বিবেচনা করে নিরাপত্তা পরিষদে প্রেরণ করবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এই উপমহাদেশের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে সাহায্য করবে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ পাকিস্তানে বাঙালি গণহত্যার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য নিশ্চয়তা বিধান করতে বিশ্ব বিবেকের প্রতি আবেদনও জানান।

ইত্তেফাকজাতিসংঘে তথ্য তুলে ধরতে প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশকে জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের বক্তব্য সাধারণ পরিষদের সদস্য দেশগুলোকে বুঝিয়ে বলার জন্য  একটি দল প্রস্তুত করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে সদস্যপদ দানের জন্য সুপারিশ করে আমাদের আবেদনপত্র নিরাপত্তা পরিষদে পাঠিয়ে বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানাবে। জাতিসংঘ সদর দফতরে পাঠানোর জন্য যাদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই জন এমসিও রয়েছেন। দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন  যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এস এ করিম। এদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক রওনা হচ্ছেন। যারা এখনও যাননি তারা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রওনা হবেন বলে সংবাদে প্রকাশ করা হয়।

/এপিএইচ/আপ-এনএস/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ