২০দিন পর ক্লাসরুমে ফিরলো মুসকান ও মানইউ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ মার্চ ২০১৬, ১১:১৯আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৬, ১১:২২

 

সপরিবারে মিনহাজ আহমেদ রাজধানীর বাড্ডায় স্যার জন উইলসন স্কুলের শিক্ষার্থী মালিহা মুসকান আহমেদ ও মানইউ আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার ২০দিন পর স্কুলে ফিরলো। এর আগে গত মঙ্গলবার তাদের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুই শিক্ষার্থীর বাবার করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের বেঞ্চ এই আদেশ দেওয়ার একদিন পরই স্কুলে প্রবেশ করে দুই ভাই-বোন। তাদের স্কুলে দিয়ে বাবা মিনহাজ আহমেদ প্রিন্সিপালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তিনি বেরিয়ে এসে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্কুলের ব্যবহার খুবই ভাল ছিল। গত কুড়ি দিনে আমার ছেলেমেয়ের লেখাপড়া এবং পরীক্ষার নম্বরের যে ক্ষতি হয়ে গেছে সেটা কিভাবে কাভার করবেন তা আগে থেকেই তারা পরিকল্পনা করে রেখেছেন দেখে আমার খুব ভাল লেগেছে।

 কুড়িদিন পর ছেলেমেয়ে স্কুলে দিতে পেরে মিনহাজ আহমেদ ভীষণ আনন্দিত। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা এ কয়দিন কী মানসিক অশান্তির মধ্যে ছিল তা বোঝানো যাবে না। ওদের সঙ্গেই কেন এমন হলো সে প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে ছিল না।

এর আগে মঙ্গলবার শুনানিকালে আদালত বলেন, ‘যে স্কুল এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করতে পারে, সেখানে কেন আপনারা তাদের ভর্তি করেন? তাদের কি বাচ্চাদের জন্য একটুও মায়া লাগে না? তাহলে এই স্কুলে পড়িয়ে কী লাভ?’

জন উইলসন স্কুলটি আগে গুলশানে ছিল। মাস তিনেক আগে এটি বাড্ডার সাঁতারকুলে কেনা জমিতে স্থায়ী ভবনে যায়। গত ১০ মার্চ মিনহাজ আহমেদ তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গেলে অভ্যর্থনাকক্ষে থাকা এক কর্মীর সঙ্গে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বিষয়ে আলাপকালে মিনহাজ স্কুলের মাঠটি ছোট বলায় অভ্যর্থনাকক্ষের কর্মী বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানাতে বলেন। এরপর একপর্যায়ে এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে নিজেকে প্রকল্প পরিচালক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে মিনহাজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।

মিনহাজ আহমেদ বলেন, ‘আমি তাদের বলি, স্কুলটি যেহেতু  জমি কিনে নিজস্ব জায়গায়  ভবন করেছে, সেখানে মাঠটা একটু বড় করলেই হতো। এতে ওই ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে তর্ক শুরু করেন। ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর ওই দিন বিকেলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমেইলে জানায়, আমার দুই সন্তান আর এই স্কুলে পড়তে পারবে না। এরপর তাদের সঙ্গে সামনাসামনি বসার পর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বললে, আমি দুঃখপ্রকাশ করে ইমেইলও করি। যদিও তারা পরবর্তীতে এই ইমেইল গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে জানিয়ে আমার সন্তানদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেনি। এরপর শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মিনহাজ আহমেদ  হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

/ইউআই /এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি