চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের শেনচেনের লুওহু জেলার ইয়িনহু পাহাড়ের পাদদেশ একসময় ছিল শহরের সবচেয়ে বড় ময়লার ভাগাড়। জায়গার নাম ইউলং ল্যান্ডফিল। সেখানে চলছে এক অভাবনীয় রূপান্তর প্রকল্প। ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ বর্গমিটারের এলাকাজুড়ে খননযন্ত্রের গর্জন, বুলডোজারের চলাচল—সবই জানান দিচ্ছে নতুন এক ভবিষ্যতের।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ভাগাড় ১৯৯৭ সালে বন্ধ হয়। প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য জমে থাকা জায়গাটি দুই দশক ধরে ছিল রীতিমতো শহরের কলঙ্ক।
২০২৪ সালে লুওহু প্রশাসন এটিকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে। প্রায় ২১৭ কোটি ইউয়ান ব্যয়ে শুরু হয় চীনের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশ পুনরুদ্ধার অভিযান।
লুওহুর নগর ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক ইয়ে বিন বলেন, এখানকার গন্ধ ও ধুলো নিয়ন্ত্রণে চীনের সবচেয়ে বড় ‘ক্যানোপি সিস্টেম’ বসানো হয়েছে এবং বর্জ্য স্থিতিশীল করতে র্যাপিড অ্যারোবিক প্রিট্রিটমেন্ট টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য খনন ও ছাঁকনি প্রক্রিয়ায় সরানো হচ্ছে ৫ হাজার টন আবর্জনা। বর্জ্য পরীক্ষার পর উপযুক্ত অংশ পুনর্ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে, কিছু পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।
তবে এই প্রকল্প মূলত আরেকটি প্রকল্পের সূচনা। পুনরুদ্ধারের পর প্রায় ৩ লাখ বর্গমিটার জায়গা মুক্ত হলে, তাতে গড়ে উঠবে ‘ডিজিটাল ইনোভেশন ভ্যালি’। সেখানে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হেলথ টেকনোলজি ও ডিজিটাল অর্থনীতি ভিত্তিক শিল্পাঞ্চল।
সূত্র: সিএমজি









