আবাসন খাতের সংকট কাটাতে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের কাছ থেকে যেসব সুবিধা চাওয়া হয়েছিল তার একটাও পূরণ হয়নি। রিহ্যাব এ জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে একটি ‘জাতীয় কমিটি’ গঠনের দাবি জানিয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবের পর রবিবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (রিহ্যাব) এ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, আবাসন খাত নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। উদীয়মান এই খাতে বিভিন্ন কর আরোপ ও সরকারের নীতি সহায়তার অভাবে ক্রমে দেশের আবাসন খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রায় ২২ হাজার ক্রেতা, ২ হাজার জমির মালিক ও রিহ্যাব সদস্য এবং সদস্য নন এমন আড়াই হাজার ডেভেলপার মহাসংকটে পড়েছে। তৈরি ফ্ল্যাট বিক্রি না হওয়ায় সদস্যদের নিজস্ব পুঁজি ও ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ আটকে গেছে বলে সেইসব কোম্পানির বিক্রিত ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, সরকার কোনও বাজেটে বা কোনোভাবেই আবাসন ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়নি। বরং প্রতিটি বাজেটের পর ব্যয় বেড়েছে। উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের ফলে ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশন আগ্রহ হারাচ্ছে। এতে সরকারের আয় কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের বাজেট প্রস্তাবনায় আমরা সিঙ্গেল ডিজিট সুদে হাউজিং লোনের জন্য যে কোনও পরিমাণের একটি তহবিল গঠন, রেজিস্ট্রেশন ব্যয় হ্রাস, আয়কর কমানোসহ বেশ কিছু বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেছিলাম। এসব দাবির ফলপ্রসূ সমাধান পাইনি। তাই আগামীতে বাজেটের আগে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আর আলোচনা করব কিনা ভেবে দেখার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, আবাসন খাত রক্ষা করতে আমরা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে একটি শক্তিশালী জাতীয় কমিটি গঠনেরও দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি তিনি আবাসন শিল্পের কল্যাণে সাতটি বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এখনও আছে, তবে এ টাকা বিনিয়োগ হলেই দুদক টাকার উৎস জানতে চায়। এ কারণে কেউ এখাতে বিনিয়োগ করতে আসছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আহকামউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাডমিন) প্রকৌশলী সরদার মো. আমিন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা।
আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা মামলায় দুজন রিমান্ডে
দুদিনে ৮৫ জঙ্গিসহ গ্রেফতার ৫২৮৭ জন
তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও মেলেনি মৃত্যুর কারণ (ভিডিও)
ওএফ/ এপিএইচ/








