নিখোঁজের আগে ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মো. হাসান খালিদ তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। এরপরই তার ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। নিখোঁজের তিনদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে তার লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিডফোর্ট) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদাউস হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুপুরে লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা তার লাশ শনাক্ত করেছেন। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে মিডফোর্ট হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেখা যায়, লাশ ব্যাগে মোড়ানো হাসান খালিদের লাশ। লাশের পাশেই বিলাপ করছে তার স্বজনরা। খালিদের ছোটভাই রাশেদ হাসান লাশের পাশে বিলাপ করে কেঁদে বলেন, আমাদের তো কোনও শত্রু নেই। কেন আমার ভাইকে মারল, কিভাবে মারল কিছুই বুঝতে পারছি না। তিনি আরও, আমাদের সবকিছু শেষ। ভাই বাসা থেকে বের হলো আর ফিরে আসল না।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস মিয়া লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেলা ২ টার দিকে সাইনবোর্ড ঘাটে নিহতের লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দেয়। এরপর আমরা ঘাটে আসি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করি। লাশের পকেটে তার ভিজিটিং কার্ড পেয়ে, অফিসের নম্বরে ফোন দেই। এ সময় তার ছোটভাই মুরাদ হাসান ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি আমাকে জানান, তার ভাই তিনদিন আগে নিখোঁজ হয়েছেন, তার নাম খালিদ হাসান। ধানমণ্ডি থানায় এ বিষয়ে একটি জিডি রয়েছে। এরপর আমি তাকে আসতে বলি। তিনিসহ আরও কয়েকস্বজন আমাদের থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন।
ইলিয়াস মিয়া আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে লাশের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাইনি। তবে লাশটি দুই থেকে তিনদিন আগে পানিতে ফেলায় পচন ধরেছে। ফুলে উঠেছে। তাই স্পষ্ট সবকিছু বোঝা যাচ্ছে না। তাই লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এসআই বলেন, নিহতের পকেট থেকে মানিব্যাগ, টাকা, ভিজিটিং কার্ড, গাড়ির চাবি এবং তার হাতে থাকা হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব দেখে নিহতরা নিশ্চিত হয়েছেন এটা হাসান খালিদের লাশ।
নিহতের ফুফাতো ভাই আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাসার নিচে নেমে ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসের কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেন হাসান খালিদ। এরপর তিন মিনিট পর অর্থাৎ ৮ টা ৩৩ মিনিটে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তার অফিসের কর্মচারীও বাসায় চলে আসেন। সে ছেলেটা খুব ভালো ছেলে। বিশ্বস্ত আমাদের। তাকে আমাদের সন্দেহ হয় না।
গত শনিবার ভোরে ওষুধ কেনার কথা বলে বাসার নিচে নামেন হাসান খালিদ এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এই ঘটনায় ২৩ জুলাই রাতেই ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার স্ত্রীর ভাই শরিফুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শনিবার সকালে তিনি অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হন। তার টেবিলে নাস্তাও দেওয়া হয়। তিনি নাস্তা না করে নিচে ওষুধ আনতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। আমরা সব জায়গা তাকে খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু পাইনি। উপায়ন্তর না পেয়ে জিডি করি। কিন্তু আজ তার লাশ পেলাম।
হাসান খালিদ গার্মেন্টস এক্সেসরিজের ব্যবসা করতেন। রাজধানীর ইস্কাটনে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অফিস। ধানমণ্ডি ৪/এ এর ৪৫ নম্বর বাসা তাদের। তিনি তার স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা সন্তান জেবাকে নিয়ে থাকতেন। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া বলেন, আমরা জিডির পর থেকেই তদন্ত করছি। সবকিছু মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় পোশাক তৈরি কারখানার মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমই শোক ও নিন্দা জানিয়েছে। তার এর সুষ্ঠু তদন্ত শেষে বিচারেরও দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়তে পারেন: বুড়িগঙ্গা থেকে ডিবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্টের লাশ উদ্ধার
/এমএনএইচ/








