ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধনী দিন পৌনে পাঁচটায় মূল মঞ্চে (আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ) বারখা দত্তের বই দিস আনকোয়াইট ল্যান্ড নিয়ে লেখকের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সাদাফ সায্।
বারখা দত্ত ভারতের এনডিটিভি-র কনসাল্টিং এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন। ২২ বছরে সাংবাদিকতা শুরু করা বারখা সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় হিসেবে পদ্মশ্রীতে ভূষিত হয়েছেন। সাংবাদিকতার কাজে ঘুরে বেড়িয়েছেন আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, মিশরসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। কাভার করেছেন সম্প্রতি হয়ে যাওয়া মার্কিন নির্বাচনও, কথা বলেছেন হিলারি ক্লিনটনের সাথে। তার সম্প্রতি প্রকাশিত বই দিস আনকোয়াইট ল্যান্ড।
কথা শুরু হয় তার সাংবাকিতা জীবন নিয়ে। তার মাও সাংবাদিক ছিলেন। তার মা ছিলেন ভারতের প্রথম দিকের নারী সাংবাদিক। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে হতে চেয়েছিলেন উকিল। তারপর পড়াশোনা করেন টিভি অ্যান্ড ফিল্ম বিষয়ে। এরপর এডিটিং, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি হয়ে যান সাংবাদিক। সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশুনা করে আসেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শুরু করেন সাংবাদিক হিসেবে এক রোমাঞ্চকর জীবন। মায়ের পর মেয়েও নারী সাংবাদিকতার বন্ধুর পথে পাড়ি জমান। বারখা বলেন, ‘নারীরা কেবল সাংবাদিকতা করতে গিয়েই যে বাধার মুখে পরে, এমন নয়। এমন বাধার মুখে পড়েছেন হিলারি ক্লিনটনও। মার্কিন নির্বাচন করতে গিয়ে তিনি খেয়াল করেছেন, হিলারিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে চিন্তা করার আগে তাকে নারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অথচ নারীদের সামাজিক সাম্যে অনেক পিছিয়ে থেকেও ভারতীয় উপনিবেশের দেশগুলো- বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নারীরা।’
মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কথা বলেন বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিক পরিস্থিতি নিয়েও। সে প্রসঙ্গে উদারপন্থী সমর্থকদের এক নতুন সঙ্কটের কথা বলেন। মার্কিনদের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষদেরও এখন হয় কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকে সমর্থন করতে হচ্ছে, নয়তো কট্টর বামপন্থী। অথচ উদারপন্থীদের জন্য যেন কোনও জায়গা নেই।
রাজনীতিতে মিডিয়ার প্রভাব নিয়েও কথা বলেন তিনি। অবশ্য তার মতে, এই প্রভাব দিন দিন কমছে। আর তার প্রমাণ মিডিয়ার ব্যাপক বিরোধিতা, বিশেষত নারী ইস্যু ও কট্টরপন্থিতার বিরুদ্ধে মিডিয়ার অবস্থান নেওয়ার পরও নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়। আর মিডিয়ার এই প্রভাব কমার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার কথা।
এই সোশ্যাল মিডিয়ার আবির্ভাব মিডিয়া তথা সাংবাদিকতার ভবিষ্যতকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন বারখা। এই পরিস্থিতিতে মিডিয়ার প্রভাব ধরে রাখার একমাত্র উপায় হিসেবে তিনি বলেছেন অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণী সাংবাদিকতার কথা। মানুষ জানে না, এমন কথা না জানাতে পারলে মানুষের মধ্যে মিডিয়ার প্রভাব আরও কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসঙ্গে তিনি পোস্ট-ট্রুথ ওয়ার্ল্ড বিষয়েও আলাপ করেন তিনি। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এবং তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন বারখা।
আলোচনার শেষে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত একটা প্রশ্নোত্তর পর্বও ছিল। সে পর্বে দর্শকদের নানা প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন বারখা দত্ত।
/এনএ/








