ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন সাড়ে বারটায় উৎসবের মূল মঞ্চে (আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ) নারীবাদ বিষয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ন্যাস্টি ওম্যান শীর্ষক সে আলোচনায় অংশ নেন ম্যান বুকার জয়ী ব্রিটিশ লেখক ডেবরাহ স্মিথ,অ্যাংলো-অস্ট্রেলিয়ান লেখক এভি উইল্ড,পাকিস্তানি সাংবাদিক নাদিরা নাইপল এবং সাংবাদিক ও কলামিস্ট রোজমুন্ড আরউইন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক-লেখক বি রাওলাট।
আলোচনার শুরুতেই তারা সাম্প্রতিক মার্কিন নির্বাচন এবং সে নির্বাচনে নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়া নিয়ে আলাপ করেন। বিশেষ করে এমন মন্তব্যের পরও নারী ভোটারদের ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এভি। নাদিরা অবশ্য বলেন, ট্রাম্পের জয়ের কারণ অন্য। নারীরা প্রচলিত ব্যবস্থা ও রাজনীতির উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে হিলারিকে বাদ দিয়ে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। রোজমুন্ড তাকে সমর্থন করে আরও বলেন, এমনকি আদিবাসী নারীরাও অনেকাংশে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে ডেবরাহ ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও নারীদের প্রতি তার মনোভাবকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তার মতে, এসবই নারীদের দৈনন্দিন জীবনে যেসব সংগ্রাম করতে হয়, সেসবেরই অংশ।
অবশ্য হিলারিকে যে নারী ইস্যু সামলাতে হয়েছে, সেটা তারা স্বীকার করেন। বিশেষ করে বিল ক্লিনটনের ফার্স্ট লেডি থাকাকালে মনিকা স্ক্যান্ডাল সত্ত্বেও হিলারি যেভাবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে উঠে এসেছেন, সেটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে গ্রহণ করাটা বেশ কষ্টকর বলেই মনে করেন রোজমুন্ড। এ প্রসঙ্গে নাদিরা যোগ করেন, নারীদের যেমন ক্ষমতায় যাওয়া জরুরি,তেমনি ক্ষমতায় গিয়ে নারীদের পুরুষের মতো চিন্তা-ভাবনা না করে, নারীত্ব ধরে রাখাটাও জরুরি। নারী নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারা নারী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন।
পরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সমাজে নারীদের সামাজিক অবস্থান,বিশেষ করে তাদের পোশাক নিয়ে অস্থিরতার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। একদিকে যেমন প্রাচ্যে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে নারীদের বোরকা-হিজাব পরা নিয়ে কড়াকড়ি আছে, তেমনি ইউরোপে ফ্রান্সের মতো দেশে এগুলো না পরা নিয়েও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। নাদিরা সামাজিক একাত্মতাবোধের উপর জোর দিলেও, সঞ্চালক রাওলাট পোশাকের স্বাধীনতার উপর বেশি জোর দেন।
আলোচনা শেষে রাওলাট প্রথম বাঙালি নারীবাদী লেখক বেগম রোকেয়াকে স্মরণ করেন। বিশেষ তার নারীবাদী ইউটোপিয়া সুলতানার স্বপ্ন-র উল্লেখ করেন তিনি। সে প্রসঙ্গে তারা সবাই তাদের নিজ নিজ নারীবাদী ইউটোপিয়ার কথা বলেন। সবশেষে ইউরোপের প্রথম নারীবাদী নারী, মানে সমাজের চোখের ন্যাস্টি ওম্যান মেরি ওলস্টোক্র্যাফটকে স্মরণ করে আলোচনা শেষ করেন।
/এনএ/








