মৌলভীবাজারের বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় একজন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ রয়েছে বলে অভিযানের সময় জানিয়েছিল কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা। যে কারণে অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানান তারা। তবে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা অভিযানে জঙ্গিদের পরাস্ত করেন সোয়াট সদস্যরা। আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় তিন জঙ্গির লাশ। এর মধ্যে একজন নারী। এই তিন জঙ্গির একজনই বোমা তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ বলে মনে করছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। এখন সবার মনে একই প্রশ্ন, কে এই জঙ্গি?
সিটিটিসি ইউনিটের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, এই জঙ্গির নাম আশরাফ ওরফে নাজিম। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে। প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার এই জঙ্গিই বোমা তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ। এই জঙ্গি বেশকিছু সময় মধ্যপ্রাচ্যের কোনও একটি দেশেও ছিল বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, নব্য জেএমবিতে বর্তমানে এমন কেউ একজন আছে যে বোমা তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বড় আকারের হাতে তৈরি গ্রেনেড তৈরি করতে সক্ষম সে। গত মার্চ মাসে কুমিল্লা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, ঢাকার আশকোনায় র্যা বের নির্মাণধীন সদর দফতর ও এয়ারপোর্ট পুলিশ বক্সের কাছে বিস্ফোরিত গ্রেনেড ও পরে নিষ্ক্রিয় করা গ্রেনেডগুলো অনেক শক্তিশালী। সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে বোমা তৈরিতে দক্ষ ও বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছে।
গত ৭ মার্চ কুমিল্লার চান্দিনায় গ্রেফতার হওয়া আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার ওরফে অমি এবং সুরত আলম হাসান ওরফে মাহমুদ হাসানের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অমি ও হাসান জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল, সীতাকুণ্ডের আস্তানায় তাদের কাছে এমন একজন ‘বড়ভাই’ মাঝে মধ্যে আসত, যাকে দেখে কিছুটা বিদেশি মনে হতো। সে আরবি ভাষায় কথা বলতে দক্ষ ছিল।’
মৌলভীবাজারের বড়হাটে অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, বড়হাটের আস্তানায় নিহত জঙ্গিদের একজনের সঙ্গে অমি ও হাসানের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। এই জঙ্গি সদস্যই আশরাফ ওরফে নাজিম বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে তার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির ঠিকানায় খোঁজ-খবরও করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) মধ্যরাত থেকে বড়হাটের বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে শুক্রবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে এই আস্তানায় শুরু হয় অভিযান। এরপর দিনভর থেমে থেমে চলে গুলি ও বিস্ফোরণ। অভিযান চলাকালে জঙ্গি আস্তানার বাইরে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী জটিলতার ব্যাপকতা বোঝাতে এ অভিযানের নাম রাখা হয় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’। শনিবার (১ এপ্রিল) সকালে শেষ হয় এই অভিযান। এতে নিহত হয় তিন জঙ্গি। এর মধ্যে একজন নারী।
আরও পড়ুন-
আত্মঘাতী ভেস্টেই তিন জঙ্গির মৃত্যু
নাসিরপুরে ‘আত্মঘাতী’ সোহেলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কথা আগেই জানতেন স্বজনরা!
/টিআর/








