পুকুর, লেক, জলাধার রক্ষার দাবিতে গণ-গোসল উৎসব পালন করেছে কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাজার পয়েন্টে এ গণ-গোসল উৎসব পালক করা হয়। পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, সন্মিলিত জলাধার রক্ষা আন্দোলন, নিরাপদ ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, এলআরবি ফাউন্ডেশন, অরুণোদয়ের তরুণ দল, এসইএল চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন, স্বপ্নের সিড়িঁ সমাজকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এ গণ-গোসল উৎসব পালিত হয়।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং সুপেয় পানির চাহিদা পুরণে রাজধানীর সব পুকুর, লেক, জলাধার, দখল-দূষণমুক্ত করার দাবি জানানো হয়। গণ-গোসল উৎসবে বক্তারা হাতিরঝিল প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পুকুর, খাল ও ঝিল রক্ষায় আরও কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, তিন দশক আগেও রাজধানী ঢাকা ছিল দৃষ্টিনন্দন পুকুর, খাল ও ঝিলের শহর। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ভরাট ও দখলের কারণে এসবের অস্তিত্ব এখন নেই বললেই চলে। রাজধানী হয়ে উঠেছে ইট-পাথরের শহর। প্রাকৃতিক এসব পানির আধার না থাকায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াসহ বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয় এখন নগরীর নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৫ সালে রাজধানীতে দুই হাজার পুকুর ছিল। শুধু পুকুর নয়, প্রায় ৪৪টি স্রোতস্বীনী খাল ছিল। সচেতনতা ও পরিবেশবান্ধব চিন্তার অভাবে নগরীর পুকুর, ঝিল ও খাল হারিয়ে গেছে। নগর উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে এগুলো হারিয়ে গেছে। যে অল্প সংখ্যক পুকুর রয়েছে, সেগুলোও অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, রাজধানীর জনসংখ্যা এখন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করে ৪৩ হাজার ৫০০ জন। এই জনসংখ্যার সাথে প্রতিদিন গড়ে যুক্ত হচ্ছে এক হাজার ৭শ’ জন। এত অধিক সংখ্যক মানুষের স্থান সংকুলান করার ক্ষেত্রে যথাযথ কোনও পরিকল্পনাও নেই। এর ফায়দা নিচ্ছে অবৈধ দখলকারীরা। পুকুর দখল, খাল দখল থেকে শুরু করে খোলা মাঠ ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলছে। এর ফলে সেবা ব্যবস্থা, পয়োনিস্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যে দুই হাজার পুকুর ছিল সেগুলোর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি কোথায় গেল, ৪৪টি খালের সিংহভাগ কেন হারিয়ে গেল? এখন বিশুদ্ধ পানির যে সংকট, বায়ু দূষণ, পরিবেশ দূষণ এগুলোর মূল কারণই তো হচ্ছে প্রাকৃতিক পানির আধারগুলো ভরাট করে ফেলা। চারদিকের চারটি নদী দখল-দূষণে প্রবাহ হারিয়ে ফেলায় রাজধানী শুকিয়ে মলিন হয়ে গেছে। যতই দিন যাবে এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কোনও উপায়ই থাকবে না।
সন্মিলিত জলাধার রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক ইবনুল সাঈদ রানার সভাপতিত্বে গণ-গোসল উৎসবে বক্তব্য রাখেন- পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ এর সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যুগ্ন সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, এলআরবি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সুলতানা রিজিয়া, অরুণোদয়ের তরুণ দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবু, সন্মিলিত জলাধার রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম সোভন প্রমুখ।
/সিএ/এসএনএইচ/








