রাজধানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামিরা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবিডিসি-উত্তর) শেখ নাজমুল আলম।
সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘আসামিরা যতই প্রভাবশালী হোক তাদের গ্রেফতার করা হবে। যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তাই মামলা হওয়ার পর কেউ আর প্রভাবশালী থাকে না। আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বনানী থানার পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ খুব গুরুত্ব সহকারে বিষয়টির ছায়া তদন্ত করছে। কারণ এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা।’
উল্লেখ্য, গত ৬ মে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাইম আশরাফ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিনই তারা ওই ছাত্রীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে দ্য রেইন ট্রি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে মামলার দুই আসামি।
পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে হত্যার পর লাশ গুম করার ভয় দেখিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দুই তরুণী নিকেতনে স্ব স্ব বাসায় ফিরে আসে। প্রথমে ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আসামিরা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় বনানী থানা পুলিশ প্রথমে তাদের মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
গত রবিবার ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগে। ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদকে কমিটির প্রধান করে ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।
/এনএল/এসএনএইচ/








