আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বলেছেন, ‘আপন জুয়েলার্স বন্ধ করলে, সারাদেশের জুয়েলার্স বন্ধ করতে হবে। কারণ আমি যেভাবে ব্যবসা করি, সবাই একইভাবে ব্যবসা করেন।’
বুধবার সারাদিন শুল্ক গোয়েন্দাদের জেরার মুখ থেকে বেরিয়ে এসে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।
দিলদার আহমেদ বলেন, ‘আপন জুয়েলার্স ৪০ বছরের প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই লাখ মানুষের সংসার চলে।আমাদের অবৈধ কোনও কিছু নেই। সব কিছুরই বৈধ কাগজপত্র আছে। সেগুলো জমা দেওয়াটা সময়ের ব্যাপার। গত পাঁচ বছর ধরে দেশে সোনার কোনও আমদানি নাই। রিসাইকেলিং করেই এই গোল্ডগুলো বানানো হয়। আমি যেভাবে ব্যবসা করি, সারাদেশে সবাই একইভাবে ব্যবসা করেন। তাই আপন জুয়েলার্স যদি বন্ধ করা হয়, তাহলে সারাদেশের জুয়েলার্সও বন্ধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শুল্ক গোয়েন্দারা যেসব কাগজপত্র চেয়েছেন, আমরা তা জমা দেবো। তবে আমাদের কাছে কোনও অবৈধ মালামাল নেই। শুল্ক গোয়েন্দারা তাদের কাজ করেছেন। তারা আমাদের কাছে যেসব ডকুমেন্টস চেয়েছেন আমরা সেগুলো জমা দেওয়ার জন্য পনেরো দিন সময় চেয়েছি। আমরা আমাদের পেপার্স শো করবো। একইসঙ্গে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সোনা ব্যবসার নেপথ্যে যে অস্বচ্ছতা আছে আপনি কি সেটা স্বীকার করেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দিলদার আহমেদ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সেক্রেটারি ছিলাম। তখন অনেকবার বলা হয়েছিল ব্যবসায়ীদের একটা নীতিমালা করার জন্য। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। একটা ব্যবসায় নীতিমালা থাকা উচিত। কারণ এখানে কিন্তু জবাবদিহিতার একটা প্রশ্ন থাকে।’
গত ১৪ ও ১৫মে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ রাজধানীতে আপন জুয়েলার্সের সবকটি শাখায় অভিযান চালায়। এসময় সাড়ে ১৩ মন স্বর্ণালংকার ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এসবের কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স। ওই সময় শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ ১৭মে আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষকে শুনানিতে অংশ নিতে বলে। নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বুধবার আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক দিলদার আহমেদ, আজাদ আহমেদ ও গুলজার আহমেদ বেলা ১১ টায় কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসেন। দিনব্যাপী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঈনুল খান তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিকরা কাগজপত্র দাখিলের জন্য ১৫ দিন সময় চান। তাদের কাগজপত্র বিভিন্ন শাখার লকারে রয়েছে বলেও তারা জানান। এরপর শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ ১৮মে বেলা দুটায় লকার খুলে রশিদ সংগ্রহ এবং আগামী ২৩মে পরবর্তী শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আপন জুয়েলার্সকে নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য,বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ।
/এআরআর/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
সোনা আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের








