জব্দ করা সোনার নিয়মিত নিলাম এবং বাণিজ্যিকভাবে সোনা আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। জব্দ করা সোনার নিয়মিত নিলাম না হওয়া এবং আমদানির অনুমতি চাইতে গেলে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ‘স্বর্ণ কোনও নিষিদ্ধ পণ্য না।’
বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান স্বাক্ষরিত এই চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনে (বাজুস) পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বৈধভাবে সোনা সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দাবি জানিয়ে আসছিল। এজন্য বিভিন্ন সময় তারা শুল্ক গোয়েন্দা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। সোনা চোরাচালন প্রতিরোধের বিভিন্ন আলোচনা সভায় দেখা যায়, বর্তমানে ব্যাগ রুলের আওতায় শুল্ক পরিশোধ করে বিদেশ থেকে ২৩৪ গ্রাম (প্রায় ২০ ভরি) সোনা আনার সুযোগ রয়েছে। এভাবে দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাত্রীরা প্রতি ভরিতে তিন হাজার টাকা করে শুল্ক কর দিয়ে সোনা নিয়ে আসেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুল্ক গোয়েন্দাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চোরাকারবারীদের কাছ থেকে যে সোনা আটক করে, তা নিলামে বিক্রির একটি বৈধ প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ধরনের কোনও নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে এসব সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে পড়ে রয়েছে। বাংলাদেশে বৈধভাবে সোনা আসার আর কোনও উৎস না থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও তারা দাবি করেছেন।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক চিঠিতে লিখেছেন, সোনা নিষিদ্ধ কোনও পণ্য না। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮ এর অনুচ্ছেদ ২৬ (২২) অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে সোনা আমদানি করার সুযোগ রয়েছে। তবে এই আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ব অনুমতি নিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে যে কেউ বাণিজ্যিকভাবে সোনা আমদানি করতে পারেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এধরনের অনুমতি সহসাই পাচ্ছেন না। অনুমতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেসব সোনা আটক করে তা নিয়মিত নিলাম করা ও আমদানি নীতি অনুযায়ী সোনা আমদানি করা গেলে এ ব্যবসায় অসাধুতা দূর হবে।
/এআরআর/ এপিএইচ/







