দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটছে দেশের প্রথম নারী মুন্সেফ, জেলা জজ, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার শেষ কর্মদিবস। ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর বিচার বিভাগে যোগদান করে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিই প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চেরও নেতৃত্বে ছিলেন।
প্রথা অনুসারে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্টের পঞ্জিকা অনুসারে তার অবসরের মেয়াদ ৭ জুলাই হলেও সেদিন শুক্রবার হওয়ায় আগের দিন বৃহস্পতিবারই তার শেষ কর্মদিবস। বিচারিক কাজের পাশাপাশি বিচারপতি নাজমুন আরা সুলাতানা বাংলাদেশ ওমেন জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দুই বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ওমেন জাজেসের সেক্রেটারি ছিলেন তিনি।
১৯৫০ সালের ৮ জুলাই মৌলভীবাজারের চৌধুরী পরিবারে জন্ম নেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। বাবা আবুল কাশেম মঈনুদ্দীন ও বেগম রশীদা সুলতানা দীনের কন্যা নাজমুন আরা সুলতানা ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৭ সালে মুমিনুন্নেসা উইমেন্স কলেজ থেকে এইচএসসি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে এলএলবি পাস করে একই বছর তিনি ময়মনসিংহ জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হন।
বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ (সহকারী জজ) হন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ২০০০ সালের ২৮ মে তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর হাইকোর্টে স্থায়ী হন তিনি। হাইকোর্টেও তিনি প্রথম নারী বিচারপতি। সবশেষ ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চের নেতৃত্বে বসান বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে।
/এমটি/ইউআই/








