একজন ফটোসাংবাদিকের বর্ণনায় বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ আগস্ট ২০১৭, ২১:২৬আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৭, ১১:৪৮





বিশ্বজিৎ হত্যা বিশ্বজিৎ দাসকে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় ওই এলাকায় ছিলেন বাংলা ট্রিবিউনের ফটোসাংবাদিক নাসিরুল ইসলাম। নিরীহ নিরস্ত্র দরজি দোকানি বিশ্বজিতকে হত্যার ভয়াবহ সেই দৃশ্য কাছ থেকেই দেখেছেন নাসিরুল।



নিম্ন আদালত এ হত্যা মামলায় ৮ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। রবিবার (৬ আগস্ট) মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল,চারজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে খালাস দেন।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেদিন হরতাল ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমি বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে পৌঁছে যাই। সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের হরতাল বিরোধী অব্স্থান ছিল। কিছু সময় পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিএমএম কোর্টের দিকে হরতালের সমর্থনে মিছিল যেতে দেখি। সেই মিছিল বাধা দিতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পাশপাশি হরতাল বিরোধী অবস্থানে যারা ছিল, তারাও লাঠি নিয়ে সেই মিছিলের দিকে এগিয়ে যায়। সেই সময়ই কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। আতংকে পুরো এলাকা জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। তখন হরতাল সমর্থনকারীরা সরে পড়ে। এরপর পুরো এলাকা নিরব হয়ে পড়ে। এর কিছু সময় পর ছাত্রলীগ সেখানে হরতালবিরোধী মিছিল শুরু করে।বেশ কিছু গণমাধ্যমকর্মী তখনও সেখানে ছিলেন।’
বিশ্বজিৎ হত্যা রায় নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘তখন পুরো এলাকা নিরব। সাংবাদিক যারা ছিলেন, তারাও আড্ডা দিচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ এক ব্যক্তিকে বলতে শুনি, তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বলছেন- দোতালা ভবনে শিবিরের কর্মীরা লুকিয়ে আছে। তখন দোতলার দিকে ছুটে যায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। নিচ থেকেই দেখতে পাই একজনকে পেটানো হচ্ছে। পরে জানা গেল তার পরিচয়, জানা গেল তার নাম বিশ্বজিৎ দাস, সে দরজির দোকানে কাজ করে।’
বিশ্বজিতের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘পেটাতে পেটাতে তাকে নিচে নামানো হয়। কয়েকজন মিলে রড, লাঠি, চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। আমরা ছবি তুলতে গেলে তখন ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাদের চাপাতি দেখায়, সরে যেতে ইশারা করে। ছেলেটি বাঁচার জন্য বারবার আকুতি করলেও ক্রমাগত আঘাত করা হয় লাঠি, রড, চাপাতি দিয়ে। আঘাতে তার শরীর তখন রক্তাক্ত। রক্তে পুরো শার্ট ভিজে উঠেছে। বিশ্বজিৎ দাস চিৎকার বলছিল- সে রাজনীতি করে না, সে রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়, সে টেইলার্সের দোকানে কাজ করে। তবে তার কথা কেউ শোনেনি। এক পর্যায়ে সেখানে পড়ে যায় সে। পরে হামলাকারীরা কিছুটা থামলে সেখান থেকে দৌড়ে সরে যায় বিশ্বজিৎ। পরে জেনেছি সে মারা গেছে।’
/সিএ/এএম

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম