প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সব অনুষ্ঠান এবং যে সব অনুষ্ঠান কিংবা কর্মসূচিতে প্রধান বিচারপতি অতিথি হিসেবে থাকবেন, সেগুলো বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই বর্জনের ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) ষষ্ঠ দিনের মতো কর্মসূচি চলছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সাহেবের অপ্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রিক বক্তব্যগুলো এক্সপাঞ্জ করার আমরা যে সুনির্দিষ্ট আহ্বান রেখেছিলাম, সেই দিন আজ শেষে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট ছুটিতে (অবকাশে) যাচ্ছে। আগামী ৩ অক্টোবর আমাদের কর্মজীবন শুরু হবে। তবু আমাদের আন্দোলন চলবে, সংগ্রাম চলবে এবং আমাদের একদফা দাবিতে সেই আন্দোলনে আমরা ফলপ্রসূ পরিণতিতে যাবো ।’
তিনি বলেন, ‘আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের বিচারাঙ্গনকে যারা কলঙ্কিত করছেন, যারা বিচারাঙ্গনকে সংসদের সঙ্গে, নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক করে তোলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে এবং সেই ষড়যন্ত্রকে নির্মূল করার জন্য আমাদের সংগঠন আন্দোলন এবং সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, আইনজীবীরাই এই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারেন। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা যেভাবে সংগ্রাম করছেন, তার কারণে সারাদেশের মানুষ আমাদের সমর্থনে আছেন।’
উপস্থিত আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাপস বলেন, ‘আমরা এসকে সিনহা সাহেবের সকল কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচি অবশ্যই বর্জন করবো, প্রত্যাখ্যান করবো এবং পরিহার করবো। কোনও আইনজীবী তার (প্রধান বিচারপতির) কোনও প্রোগ্রামে যাবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনের আন্দোলন হবে একদফা, এক দাবি। তিনি (প্রধান বিচারপতি) তো অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেননি। এরমধ্যে তিনি আবার শপথও ভঙ্গ করেছেন। শপথ ভঙ্গের কারণে তিনি আর সেই পদে আসীন থাকতে পারেন না। একজন বিচারপতি তার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় আরেকটি সাংবিধানিক পদের কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার যে ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে, সেটা শপথ ভঙ্গ শুধু নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। সুতরাং, সেই প্রেক্ষিতে একজন বিচারপতির যে কোড অব কনডাক্ট রয়েছে, সেটা মেনে তিনি অচিরেই তার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে আমরা এই সুনির্দিষ্ট দাবি রাখছি।’
রায়ের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘তিনি রায়ে বলেছেন যে, শ্রীলঙ্কাতে ২০১৩ সালে যে প্রোভিশন ম্যাগনেসিভ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তা আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানে ছিল। একই ধারা ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেও আছে। সেই ধারা পরিপালনপূর্বক শ্রীলঙ্কাতে প্রধান বিচারপতিকে সরানো (ইমপিচ) হয়েছে।’
রায় প্রদানকারী বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কার জন্য তারা (বিচারপতিরা) ভীত। একটি রায় দেওয়ার সময় আপনি যদি ভীত হন, কিসের কারণে আপনি (প্রধান বিচারপতি) ভীত? আপনার মনে কী আছে? কী করেছেন আপনি যে, আপনি ভীত?’
তাপস বলেন, ‘রায় দেওয়ার সময় কেউ যদি রাগ-বিরাগ বা ভীত হয়ে রায় দেন, সেই রায় কোনোদিনও আইনসিদ্ধ হতে পারে না এবং সেটাও একটি আইন ভঙ্গের শামিল। সুতরাং, সবদিক থেকে আপনারা অযোগ্য হয়ে গেছেন। এই প্রধান বিচারপতির পদটি ধরে রাখার আপনার আর কোনও যোগ্যতা নেই। তাই আগামী অক্টোবরের আগেই আপনি এই পদ থেকে চলে যাবেন। এটাই আমরা দাবি করছি। আর না হলে আগামী অক্টোবর থেকে বাংলাদেশব্যাপী আমরা দুর্বার আন্দোলন গেড়ে তুলবো।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘‘এসকে সিনহা যে কর্মসূচিতে যাবেন, সেই কর্মসূচি আমরা পরিহার করবো। ঢাকা বারে জন্মাষ্টমীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানকার আইনজীবীরা বলেছিলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) আসলে আমরা তার গাড়ির সামনে শুয়ে পড়বো।’ সেই অনুষ্ঠান ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন বাতিল করেছে। তিনি কি এর ভাষা বুঝতে পারছেন না ? তিনি তো রায় দেওয়ার একক অধিকারী নন।’’
ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলকে পাকিস্তানের একটি রায়ের কথা বলেছেন। আপনাকে(প্রধান বিচারপতি) দেশের মানুষের পক্ষ থেকে একটি কথা বলতে চাই, এটা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, পাকিস্তানীদের দেশ নয়।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সানজিদা খানম, নূর ইসলাম সুজন, আইনজীবী লায়েকুজ্জামান মোল্লা, আইনজীবী আজহারুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।








