সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে যারা কর্মসূচি দিচ্ছে তাদের কঠোরভাবে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাত্রী অধিকার আন্দোলন। একই সঙ্গে গণবান্ধব ডিজিটাল বাহনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সব ষড়যন্ত্র বন্ধেরও দাবি তুলেছে সংগঠনটি। এর নেতারা বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানান।
অ্যাপভিত্তিক পরিবহনের (উবার, পাঠাও) বিরুদ্ধে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের ডাকা ধর্মঘট কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল। বৃহস্পতিবারের মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘সিএনজি অটোরিকশা মালিক-চালকদের বেপরোয়া আচরণে সাধারণ যাত্রীরা তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এতে ঈর্ষাপরায়ন হয়ে তারা আবারও ধর্মঘটের নামে নগরবাসীকে জিম্মি করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এ ধরনের কর্মসূচির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
যাত্রীদের জিম্মি করার পরিবর্তে সিএনজি চালকদের প্রতি পরিবহন সেবা চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক। তার কথায়, ‘যাত্রীবান্ধব পরিবহন সেবা চালু করলে মানুষ আবারও সিএনজিকে বেছে নেবে। তাই আপনারা নৈরাজ্য বন্ধ করে মালিক-শ্রমিক সমঝোতার মাধ্যমে যাত্রীসেবার পথে ফিরে আসুন।’
বাস মালিকদের সিএনজি থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কেফায়েত শাকিল। তার ভাষ্য, ‘নৈরাজ্যের কারণে সিএনজি অটোরিকশার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে যাত্রীরা। আপনারা অটোরিকশা থেকে শিক্ষা নিয়ে সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য বন্ধ করে যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করুন। নয়তো যে কোনও সময় আপনাদেরও বর্জনের ডাক দেবে নগরবাসী।’
সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেছেন— নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী এ বছরের এপ্রিলে রাজধানীতে চলমান সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রী হয়রানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু কতিপয় বাস মালিক-শ্রমিকের অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘটের অজুহাতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিআরটিএ। যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘ওই সময় সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে সরকার জনসাধারণের কাছে তিন মাস সময় চেয়েছিল। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি তারা। এ কারণে নগরবাসী হতাশ।’
যাত্রী অধিকার আন্দোলনের অভিযোগ— সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ’র উদাসীনতার সুযোগে পরিবহনগুলো এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কারও অদৃশ্য ইশারায় জনগণের পরিবর্তে কতিপয় বাস মালিক-শ্রমিকের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে বিআরটিএ। সেজন্য একের পর এক কালক্ষেপণ করছে তারা।
রাজধানীসহ সারাদেশে সিএনজি অটোরিকশা আর গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি ও সেবার নামে নৈরাজ্য বন্ধসহ আট দফা দাবি জানায় যাত্রী অধিকার আন্দোলন। এর মধ্যে রয়েছে— নামে-বেনামে চালু হওয়া সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, রাজধানীতে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করা ও শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া কার্যকর করা। এই আট দফা বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক অন্তু মুজাহিদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও ছিলেন তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশের সমন্বয়ক জিহাদ আরিফ, যাত্রী অধিকার আন্দোলনের নেতা মাঈন উদ্দিন আরিফ, জোবাইদা, আনোয়ার হোসেন, এসএম সজিব, আনিছুর রহমান ও মোহাম্মদ সোহাগ প্রমুখ।








