২০১৭ সালে কর্মক্ষেত্রে ৩২১টি দুর্ঘটনায় ৪২৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির (এসআরএস) এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এটি প্রকাশিত হয়।
জরিপের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা। এতে বলা হয়েছে— নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা ৪১৫ জন। আর নারী শ্রমিক ১১ জন। তাদের মধ্যে নির্মাণ খাতে নিহতের সংখ্যা সর্বাধিক ১৪৪ জন, যা মোট নিহতের ৩৪ শতাংশ।
১৫টি জাতীয় ও ১১টি স্থানীয়সহ ২৬টি দৈনিক সংবাদপত্র ঘেঁটে নিহত শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানায় সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি। তবে যেসব শ্রমিক কর্মক্ষেত্রের বাইরে অথবা কর্মক্ষেত্র থেকে আসা-যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এ জরিপে।
সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮৫৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক শ্রমিক নিহত হয়েছেন কর্মক্ষেত্রে। এর আগে ২০১৬ সালে ৩৪১ জন, ২০১৫ সালে ৩৭৩ জন, ২০১৪ সালে ৩২০ জন ও ২০১৩ সালে ১ হাজার ৫১১ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে রানা প্লাজায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৫ জন। ২০১২ সালে নিহত হওয়া ৪৯০ জন শ্রমিকের মধ্যে তাজরিন গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন ১১২ জন। এছাড়া ২০১১ সালে ৩৮৮ জন, ২০১০ সালে ৩৮৩ জন, ২০০৯ সালে ২৬৫ জন, ২০০৮ সালে ৩২০ জন, ২০০৭ সালে ২২২ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কর্মক্ষেত্রে।
জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৪১৯টির বেশি আহত ও নিহতের ঘটনার তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেননি মালিকরা। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রম আদালতে ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত এসআরএস-এর ১২১টি মামলা চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১১৭ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৮৮ জন, ছাদ-মাচা ও ওপর থেকে পড়ে ৫৭ জন, শক্ত বা ভারী বস্তুর আঘাতে বা নিচে চাপা পড়ে ৩৯ জন, বয়লার বিস্ফোরণে ৩০ জন, সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১৯ জন, আগুনে পুড়ে ১৮ জন, বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য বিস্ফোরণে ১৬ জন এবং ছাদ, দেয়াল, মাটি ধসে ৩২ জন শ্রমিক মারা গেছেন। এছাড়া পানিতে ডুবে ও বজ্রপাতসহ অন্যান্য কারণে নিহত হন ১০ জন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুতান উদ্দিন, সেফটি অ্যান্ড রাইটসের চেয়ারপারসন খুশী কবির।







