রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও সংস্থাগুলোর অপতৎপরতাসহ রোহিঙ্গাদের এনজিওকর্মী হিসেবে নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কিছু বিদেশি এনজিওতে রোহিঙ্গাদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে ব্যাঘাত হচ্ছে। কারণ দিনের বেলায় রোহিঙ্গারা এনজিওকর্মী হিসেবে কাজ করলেও রাতের বেলা আরসা, আল-একিনসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হয়ে যায়।’
রবিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল আলোচনা কক্ষে ‘রোহিঙ্গা সমস্যা ও এনজিওদের অপতৎপরতা রোধে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় এম গফুর উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গাদের এনজিওকর্মী হিসেবে নিয়োগসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও সংস্থাগুলোর অপতৎপরতা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসক। প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। আলোচনা সভায় ওই প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরা হয়।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল, অগ্রযাত্রা বাংলাদেশ, কাতার চ্যারিটি, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল এজেন্সি ফর ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট ইন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট (নুসরা), দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টের (ঊষা) বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এরা কেবল আর্থিকভাবেই অনিয়ম করছে না, এখতিয়ার বহির্ভূত কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করছে।’
স্থানীয় জেলা প্রশাসক গত ৪ জানুয়ারি এনজিওগুলোর ত্রাণ বিতরণ নিয়ে যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন, তাতে এসব অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা এনজিওগুলোর অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরে এম গফুর উদ্দিন বলেন, ‘সেভ দ্য চিলড্রেন খোলাবাজার থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে ডাল কেনে। এরপর রোহিঙ্গাদের দিয়ে প্যাকিং করিয়ে প্রতি কেজি ডালের খরচ ৯৩ টাকা উল্লেখ করে থাকে।’ এছাড়া বিধবা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে কক্সবাজারে অসামাজিক কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় অনতিবিলম্বে রোহিঙ্গাদের অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া ও এনজিওগুলোর কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি রাখাসহ এনজিওগুলোতে রোহিঙ্গাদের নিয়োগ বন্ধের দাবি জানান তিনি।
আলোচনা সভায় গণতদন্ত কমিশনের সদস্য সচিব ও সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নাকি দাবি করে, তারা বাঙালি। দুই হাজার বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে বোঝা যাবে তাদের দাবি কতটা যৌক্তিক। ক্যাম্পের মধ্যে ১০ লাখ রোহিঙ্গা ঠাঁই নিয়েছে। এদের ক্যাম্পের ভেতরে বন্দি করে রাখা মুখের কথা নয়। এরা চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাম্পের ভেতরে থেকেই তারা মিয়ানমারের অনেক ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তারা পরিবেশটাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এনজিগুলোর মধ্যে বহু রাজাকার, আল-বদর ঘাপটি মেরে বসে আছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অযৌক্তিক। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর হতে হবে। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে তাদের এখানেই জিইয়ে রাখতে চায় এনজিওগুলো। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নোটিশ দিয়ে এগুলোর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা উচিত।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমি জানি— আমরা যেভাবে ভাবছি, তিনিও তাই ভাবছেন। তার নেওয়া সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এনজিওগুলোর অপতৎপরতা রোধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’ তিনিও এনজিওগুলোর রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি জানান।







