স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন সেখানে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুই ঘণ্টা আউটডোর বন্ধ রাখার পর তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানান ইন্টার্নরা।
এ প্রসঙ্গে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের সমস্যা মানে হাসপাতালের সমস্যা। এটা পুরনো হাসপাতাল, লোকজন কম। যাহোক আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে কিছু লোকজনের ব্যবস্থা করেছি। কিছু আনসার সদস্যের ব্যবস্থা করেছি। এগুলো তাদের জানিয়েছি। পরে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে।’
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একজন শামসুজ্জোহা শামস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ আমরা দুই ঘণ্টার জন্য আউটডোরের কাজ বন্ধ রাখি। এরপর পরিচালক স্যার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, খুব দ্রুত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে ১০০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। আর হাসপাতালে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা করবে। আমরা তাই কর্মসূচি শেষ করেছি। কাল (মঙ্গলবার) থেকে কর্মস্থলে যাবো।’
গত শনিবার রোগীর অ্যাটেনডেন্টের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকের প্রথমে তর্ক ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর তারা রবিবার সকালে মানববন্ধন করেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেন। এসময় তারা কর্তৃপক্ষের কাছে সাতটি দাবি জানান।
এগুলো হচ্ছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করার জন্য কর্মরত মাত্র ৩০ জন আনসারের পাশাপাশি আরও ৩০০ জন আনসার সদস্যের নিয়োগ নিশ্চিত করা, রোগী প্রতি সর্বোচ্চ একজন অ্যাটেনডেন্ট নিশ্চিত করা, রোগীর অ্যাটেনডেন্টের জন্য গেট পাসের ব্যবস্থা করা, কোনও রোগী বা তার লোক কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর যেকোনও ধরনের শারীরিক আক্রমণ অথবা ইভটিজিং এর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা, সার্জারি ভবনের প্রতি তলায় চিকিৎসকদের জন্য টয়লেট বা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা, মেডিসিন পুরাতন ভবন পুন:নির্মাণ করা এবং দালালদের উৎপাত ও রোগীদের ভোগান্তি নিরসনে সার্জারি ও মেডিসিন ভবনে দুটি হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা করা।








