কেউ সহিংসতা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে; একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘কেউ শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করলে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সহিংসতা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনও ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য পুলিশি যত কৌশল রয়েছে, সবকিছুই আমরা নিয়েছি।’
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি সদর দফতরে অনির্ধারিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আমরা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গুজব-শঙ্কার কথা শুনছি। আমরা এসব বিষয়ে অবগত। নগরবাসীকে রক্ষার জন্য, সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সরকারের সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা নগরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নাগরিকের নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করতে পারবে না। সেজন্য যা কিছু আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা নেবো।’
বিএনপির পক্ষ থেকে গণগ্রেফতারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের কথা বলার অধিকার রয়েছে। যে কেউ এটা বলতে পারেন। এ প্রসঙ্গে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আমি শুধু বলবো, কোনও গণগ্রেফতারের ঘটনা নেই। এ ধরনের কোনও অভিযোগ আমার কাছে দিলে আমি তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।’
গত ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পুলিশের কাস্টডি থেকে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, সাতজন পুলিশ সদস্যকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তারা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফিল্মি স্টাইলে ফ্লাইং কিকসহ পুলিশকে শত শত লোক পেটাচ্ছে—এটা আপনারা দেখেছেন। এর ১৫ দিন আগেও হাইকোর্টের মোড়ে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর নির্বিচারে ইটপাটকেল মারা হয়েছে। অনেক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সেই ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। এরকম যারা ভাঙচুর করেছে, জ্বালাও-পোড়াও করেছে, সেসব আসামিকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের জন্য কেউ হুমকি তৈরি করলে, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করলে তাকে আমরা গ্রেফতার করব। সেখানে গণহয়রানির কথাটা নিতান্তই একটি অজুহাত। আমি মনে করি, এটি আমাদের ভালো কাজটিকে বিতর্কিত করা এবং দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার একটি অপকৌশল।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এরই মধ্যে কোনও কোনও টেলিভিশনে বলা হয়েছে এরা অনুপ্রবেশকারী। কিন্তু আমরা তিনজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে ধরেছি। তারা একটি দলের নেতাকর্মী। আমরা মিথ্যা বলতে পারি, কিন্তু প্রযুক্তি মিথ্যা বলতে পারে না। ভিডিও ফুটেজ মিথ্যা বলতে পারে না। তারা অকপটে সবকিছু স্বীকার করেছে। বিজ্ঞ আদালতে তাদের প্রসিড করা হয়েছে।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৫ সালে যেভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, অগ্নিসন্ত্রাস-বোমা সন্ত্রাস করা হয়েছে; তখনকার মতো যেকোনও ধরনের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করার জন্য, জনগণের সুরক্ষার জন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগ নেবো। সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেবো। কোনোভাবেই নাগরিকদের সুরক্ষা বিঘ্নিত করার সুযোগ আমরা দেবো না।’
রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোনও ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কিনা— জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘নাশকতার আশঙ্কা আছে, এমন বলা যাবে না; আবার নেই—সেটাও বলা যাবে না। আমাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। তবে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, ২০১৩-১৪-১৫ সালে যেভাবে ৯২ দিন নজিরবিহীন নাশকতা হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দেই না। কিন্তু তা প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।’
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, ‘এসব আমাদের কাজের অংশ। আইনে বলা হয়েছে, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা দেবে। এটা কোনও রাজনৈতিক কিছু নয়। এটাকে যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে চায়, আমি বলবো, তারা এ ধরনের সহিংসতাকে ইন্ধন দিয়ে থাকে। আমরা দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী জনগণের সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য করছি। আমাদের অফিসারদের পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য যতটুকু শক্তি প্রয়োজন ততটুকু প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগে নিষেধ করা হয়েছে, সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতেও বলা হয়েছে।’
ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা হাবীব-উন-নবী খান সোহেলকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, ‘তাকে (সোহেল) আটকের কোনও তথ্য নেই। বাংলাদেশ পুলিশের কোনও ইউনিট সোহেলকে আটক করেনি। এসব প্রোপাগান্ডা। জনগণের মনে ভীতি ছড়াতে এসব করা হচ্ছে।’ নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনও গুজবে কান দেবেন না। আপনাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের যেকোনও অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।’
আরও পড়ুন-
মামলার রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রায়ের আগে কী বার্তা দেবেন খালেদা জিয়া








