চাঁদপুরে লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্তদের ১৭ কোটি টাকা দিতে হবে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ মার্চ ২০১৮, ২১:৩৩আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ২১:৩৮

 চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মোহনায় ২০০৩ সালে এমভি নাসরিন-১ লঞ্চডুবির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২১ পরিবারকে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ওই রায়ে  ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি অবগত করতে ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বুধবার (১৪ মার্চ) সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের স্বাক্ষরের পর ১৩৩ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গতবছরের ৫ জুন লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২১ পরিবারকে ১৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার ও ইশরাত হাসান। মামলাকারী সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, কামরুল হক সিদ্দিকী ও সুব্রত চৌধুরী।

২০০৩ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় এমভি নাসরিন-১ লঞ্চডুবিতে ১১০ জন নিহত ও ১৯৯ জন নিখোঁজ হন।  এই দুর্ঘটনায় লঞ্চটির মালিক এবং মাস্টারও নিহত হন। পরে ওই ঘটনায় করা মামলায় লঞ্চটির নকশা তদারকি দলের (সুপারভাইজার প্যানেল) দুই সদস্যের এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স) অনুযায়ী গঠিত নৌ আদালত এ রায় দেন।

এরপর একই বছর চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক লঞ্চডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ জনের তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকা অনুযায়ী নৌ-দুর্যোগ ট্রাস্টি বোর্ড নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়। যার পরিমাণ ৭০ লাখ টাকার ওপরে।

এ ক্ষতিপূরণ অপ্রতুল দাবি করে ২০০৪ সালে ঢাকার তৃতীয় জেলা জজ আদালতে নিহত ১২১ জনের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ মামলা করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। ওই মামলায় ২৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।

মামলায় নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমুদ্র পরিবহন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানসহ ২১ জনকে বিবাদী করা হয়।

এরপর ২০১২ সালে মামলাটি বদলি হয়ে ঢাকার সপ্তম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত রায় দেন। এতে ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে বিবাদীরা জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার জন্য আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন জানান। আদালত এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।

নিম্ন আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএসহ বিবাদীরা ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।

ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় কেন বাতিল ও রদ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে ২০১৭ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

 

 

 

বিআই/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম