জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশনের) করা আবেদনের শুনানিতে সবার আগে আদালতে হাজির হয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এমনকি খালেদা জিয়ার মামলা হাইকোর্টে আসার পর এবারই প্রথম এ মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
বুধবার (২৮ মার্চ) দুপুর ২টায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈতবেঞ্চে শুনানির সময় নির্ধারিত ছিল। খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবীদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সবার আগেই ১টা ৫৫ মিনিটে এজলাসে প্রবেশ করেন।
ব্যারিস্টার মওদুদের প্রবেশের প্রায় ১০ মিনিট পর এজলাসে প্রবেশ করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন আইনজীবী। শুনানি শুরু হওয়ার আরও কিছু সময় পরে এজলাসে আসেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে এজলাস কক্ষে বিচারপতিরা প্রবেশ করেন। এরপর মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে জানান, দুদক খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে চেয়ে যে আবেদন (রিভিশন) করেছে, আমরা এখনও তার কপি (রিভিশনের) পাইনি। তখন দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমরা কপি দেবো। অবশ্যই দেবো।’
এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ তার আসন থেকে উঠে এসে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে শুনানি করেন। তখন আদালত বলেন, ‘আইনত আপনারা কপি পান না। তবু তার (দুদক আইনজীবী) কথা শুনি। দেখি তিনি কী বলেন।’ এরপর দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান তার আবেদনের ওপর শুনানি শুরু করেন।
অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম তার শুনানিতে এ সংক্রান্ত মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের কয়েকটি ধারার ওপর ব্যাখ্যা দেন এবং কয়েকটি কেস রেফারেন্সের ওপর আদালতে শুনানি করেন।
এরপর শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমাদের কপি তো দিলো না (দুদক)। কিন্তু তার শুনানি থেকে আমরা যা বুঝলাম, এটা একটা বিশেষ মামলা, বিশেষ আইনের মামলা।’ এই বলে জয়নুল আবেদীন তার বক্তব্য দেন। এ সময় খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বেশ কিছু আইনের ওপর দুদকের আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন। মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, ‘এখন একটি মাত্র পথ খোলা আছে। দুদক এই মামলার রায়ে (বিচারিক আদালতের রায়) ক্ষুব্ধ হলে রিভিশন না করে তাদের আপিল করতে হবে। আর রিভিশন করতে হলে আইনটি পরিবর্তন ও সংশোধন করে নিয়ে আসতে হবে।’
এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আদালতকে বলেন, ‘দুদক স্বাধীন। কিন্তু কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, এটা তো পলিটিক্যাল (রাজনৈতিক) ব্যাপার। সাজা কম ছিল না বেশি ছিল, এটা নিয়ে তারা কীভাবে এগ্রিভড (দুদক কীভাবে সংক্ষুব্ধ)? এই মামলায় তাদের রিভিশন আবেদনের কোনও সম্পর্কই নেই।’ এরপর পুনরায় এজে মোহাম্মদ আলী তার শুনানি শুরু করেন। তিনি তখন আদালতকে বলেন, ‘এ মামলায় রিভিশন না করে তিনি (দুদক আইনজীবী) আপিল করতে লজ্জা পাচ্ছেন কেন?’
জবাবে আদালত বলেন, ‘এটা তো আমাদের বিষয় না। আপনারা শুনানি করবেন। আমরা তার ওপর আদেশ দেবো।’ আদালত আরও বলেন, ‘আপনাদের কাছ থেকে বারে (আইনজীবী থাকাকালে) শিখেছি, কেউ যদি ভুল পথে যায় তবে যাক, ভুল পথে না গেলে তো সিদ্ধান্ত আসবে না।’ এরপর আদালত দুদকের আবেদন গ্রহণ করে রুল জারি করেন এবং খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের সঙ্গে এ রুলের শুনানির দিন ধার্য করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ একটি দৈনিক পত্রিকায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সরে যেতে বলা সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, এ মামলা থেকে মওদুদ আহমদকে সরে যেতে বলা সংক্রান্ত খবরটি মিথ্যা। এর একদিন পর আজ (বুধবার) এ মামলায় দুদকের এক আবেদনের বিরোধিতা করতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ। খালেদা জিয়ার মামলা হাইকোর্টে আসার পর এটিই ছিল ব্যারিস্টার মওদুদের প্রথম শুনানি।
আরও পড়ুন:








