যৌন হয়রানির অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হালিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফের একাধিক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা দুই শিক্ষার্থী তাদের ঘটনা পুনঃতদন্ত করে ওই শিক্ষকের ‘উপযুক্ত শাস্তি’ চেয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছেন। ফলে হালিম প্রামাণিককে সাময়িক বরখাস্ত করে ফের তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাট্যকলা বিভাগের দুই ছাত্রীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় হালিম প্রামানিককে দুই বছরের জন্য পদোন্নতি আটকে দেওয়াসহ তিরস্কার করে শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু অপরাধের সঙ্গে শাস্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ঘটনা পুনঃতদন্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি করে সোমবার (৩০ এপ্রিল) ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হালিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও যৌন হয়রানির অভিযোগ এসেছে। এছাড়া এর আগে যাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি হালিম প্রামানিক শাস্তি পেয়েছেন তারা আবার ঘটনাটি পুনঃতদন্তের জন্য চিঠি দিয়েছে। ফলে আমরা নতুন করে পাওয়া অভিযোগ ও পুরাতন অভিযোগগুলো তদন্ত করবো।’
তিনি বলেন, ‘নতুন অভিযোগগুলো পাওয়ার পর নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সঙ্গে তদন্তে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তিনি সাময়িক বহিষ্কার থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন জন ডিন, অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের পক্ষ থেকে দুই জনসহ মোট পাঁচ জনকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, অভিযোগ ওঠার পর থেকেই হালিম প্রামাণিক সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। তবে সিন্ডিকেট সভায় তার সাজা হয় পদোন্নতি বিলম্বিত করা ও তিরস্কার। তার ফের ক্লাসসহ একাডেমিক কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন করে ফের সাময়িক বরখাস্তের শিকার হলেন তিনি।
এদিকে উপাচার্য বরাবর লেখা দুই ছাত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘হালিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রথম তদন্ত কমিটি সত্যতা পায়। দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের আলোকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা রীতিমতো হাস্যকর। এই কমিটি আমাদের আপসসহ নানারকম আপত্তিকর প্রশ্ন ও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন যাতে আমরা বিপর্যস্ত হই। এ বিষয়ে আপনাকে ( উপাচার্য) অবহিত করা হলে আপনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে হালিম প্রামানিককে এমন হাস্যকর শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই মানি না। এছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজের সম্পূর্ণটা কেন পাওয়া যায়নি তা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। যার উপযুক্ত জবাব চাই।’
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর একজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চিঠি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছি। উপাচার্য এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।'
আরও পড়ুন- যৌন হয়রানির শাস্তি তিরস্কার!








