বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ জুলাই ২০১৮, ১৯:২৫আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩১

বাপা ও বেন এর সংবাদ সম্মেলন বন্যা ও জলাবদ্ধতার জন্য শহরকেন্দ্রিক বেড়িবাঁধ এবং নদীতে ছোট-বড় অসংখ্য বাঁধকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)। এসব ব্যারেজ ভেঙে অষ্টমাসী বাঁধ নির্মাণ করার সুপারিশ করেছে তারা। এছাড়া, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস ঠেকাতে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠন দুটি।

বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস ঠেকাতে বাপা-বেন সম্মেলনের সুপারিশমালা প্রকাশ উপলক্ষে আজ সোমবার (২ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠন দুটি। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। অন্যদের মধ্যে বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, ফিরোজ আহমেদ, মাহমুদুর রহমান ও মিহির বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হাবিব বলেন, বন্যা প্রতিরোধে নিম্ন উচ্চতার বাঁধ নির্মাণ ও তা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষের সম্পৃক্ততা থাকা জরুরি। বেড়িবাঁধ বন্যার প্রকোপ বাড়ায়, নদী ভরাট করে। তাই বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য বেড়িবাঁধ অকার্যকর।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার আশেপাশের জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী স্থায়ী স্থাপনা। শহরের ভেতরের খাল ও অন্য জলাশয়গুলোর সঙ্গে নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে যাচ্ছে। কারণ, পানি নদীতে নামার কোনও জায়গা নেই।

বাপা-বেন সম্মেলনের সুপারিশগুলো তুলে ধরে তিনি জানান, এ বছরের ১২ থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৮০ জন গবেষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। হাওরাঞ্চলে ২০১৭ সালের বন্যার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, দেশে উন্নয়ন দরকার। কিন্তু সেটি যেন পরিবেশ ধ্বংস করে না হয়। উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণও করা হচ্ছে। তাই পরিবেশ দূষণ রোধের ক্ষেত্রে উন্নয়ন কাজের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

আব্দুল মতিন বলেন, উন্নত দেশগুলোর সরকার পরিবেশের ক্ষেত্রে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের গবেষক ও বিজ্ঞানীদের কথা শোনেন। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার এর উল্টো। তারা দেশের রাজনীতিবিদ, দখলদার, পরিবেশ দূষণকারীদের কথা শোনেন। ফলে পরিবেশ দূষণ নিয়ে যত কথাই আমরা বলি না কেন–কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এই দূষণ রোধে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সরকার এগিয়ে এলে জনগণকেও সঙ্গে নিতে হবে। সবার সহযোগিতার মাধ্যমেই বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস থেকে রক্ষা পেতে পারে সবাই।

/এসএনএস/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম