ভুল বিচারে ভারতে কারাভোগকারী বাদল ফরাজীর বিষয়ে সরকারের সব কার্যক্রম ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাদল ফরাজীকে কারামুক্তির নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি উত্থাপিত না হওয়ায় খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১১ জুলাই) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার কাউছার। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।
আদালত বলেন, ভুল বিচারে ভারতে কারাভোগকারী বাদল ফরাজীর বিষয়ে সরকারের সব কার্যক্রম ইতিবাচক। এখন হুট করে কোনও রুল বা অবজারভেশন দিলে সেটা হিতে বিপরীত হবে। তার মুক্তিতে সরকারকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত।
এরপর আদালত রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি বলে খারিজ করে দেন।
এর আগে গত ৮ জুলাই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ বিষয়ে একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়। ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার কাউছার ওই রিট দায়ের করেছিলেন।
রিট আবেদনে বাদল ফরাজীকে জেলখানায় আটক রাখা কেন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও পররাষ্ট্র সচিব এবং আইজি প্রিজনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছিল।
বাদল ফরাজীকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ওই দুই আইনজীবী গত ৮ জুলাই বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের আদালতের নজরে আনেন। তারা এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা চান। তবে আদালত তাদের রিট আবেদন করার পরামর্শ দেন। পরে ওই দুই আইনজীবী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দাখিল করেন। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত মামলাটির আদেশের জন্য বুধবার (১১ জুলাই) দিন ধার্য করেছিলেন।
ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, ‘বাদল ফরাজীর পরিচয় নিয়েই যেখানে প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে ভারতের আদালত তাকে বাদল সিং হিসেবে ধরে নিয়ে বিচার করেছে। সেখানে ভুল বিচারের শিকার হয়েছেন বাদল ফরাজী। এটা স্বীকার করে নিয়েছে দুই দেশের সরকারই। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে আইনের দৃষ্টিতে বাদল ফরাজী নির্দোষ ব্যক্তি। তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হলেও কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। নির্দোষ ব্যক্তিকে কেন কারাগারে রাখা হবে? এ কারণে রিট আবেদন করা হয়েছিল।’
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ৬ মে দিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় দিল্লির পুলিশ বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল। এ অবস্থায় ওই বছরের ১৩ জুলাই ট্যুরিস্ট ভিসায় বেনাপোল সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা মামলায় বাদল ফরাজীকে গ্রেফতার করে ভারতের পুলিশ। বাদল সিং মনে করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে বিচার শেষে তাকে ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ভারতের কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।
পরে ভারতীয় একটি বেসরকারি সংস্থা বাদল ফরাজীর ঘটনা জানতে পেরে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। তারা ঢাকার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ৬ জুলাই দেশে ফেরত নিয়ে আসে। এরপর তাকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।








