তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে কারাবিধি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ডিভিশন দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে শহিদুল আলমকে হাইকোর্টের দেওয়া ডিভিশন আদেশ বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে ওই আদেশটি প্রতিপালন না হওয়ায় একটি রিট দায়ের করা হয়।
পরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আটক আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে কারাবিধি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ডিভিশন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। শহিদুল আলমের স্ত্রী ডক্টর রেহনুমা আহমেদের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি বোরহানউদ্দীন ও বিচারপতি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এরপর আদেশটি স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন জানানো হলে আদালত তার ওপর কোনও আদেশ না দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে এ বিষয়ে লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলেন। কিন্তু সেই আবেদন বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) খারিজ হওয়ায় শহিদুল আলমের জামিন বহাল থাকছে।
প্রসঙ্গত, দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। ওই ঘটনায় রমনা থানার তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গত ৬ আগস্ট ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের (পরিদর্শক) আরমান আলী। শহিদুলের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে রাখার আদেশ দেন। এরপর গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে শহিদুল আলমের জামিন বিষয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু হাইকোর্ট সেই জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত হওয়ার কথা প্রকাশ করেন। ফলে নিয়ম অনুসারে আবেদনটির শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেন। এরপর নতুন বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি শেষে শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির ডিভিশন প্রদানের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।








