আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য পাঠ্যবই পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকার ছাপাখানা লিখন আর্ট প্রেস ও জনতা প্রেসে বিনামূল্যের বই ছাপার কার্যক্রম দেখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটির বেশি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে ১১ কোটি বই ছাপানোর পর উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই জেলা-উপজেলায় বই পাঠানো হচ্ছে। ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে যাবে।’
ছাপাখানা পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই উঠবে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে এ বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল বই ও ৫টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নিজ ভাষায় বই ছাপা হয়েছে। এবার বইয়ের ছাপার মান অনেক ভালো হয়েছে। বইয়ের মান প্রতিবছরই উন্নত হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের বছর সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়েই বই পাবে।’
ছাপাখানা পরিদর্শনের সময় নিম্নমানের বই ছাপা হচ্ছে কিনা, ছাপার মান কেমন তা এনসিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন মন্ত্রী। এ সময় এনসিটি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান, এনসিটিবি’র সদস্য ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকীসহ মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাপাখানা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, লিখন আর্ট প্রেস ও জনতা প্রেসে গাইড বই ছাপার কাজ করা হয়। সরকারি বই ছাপার কাজ নেওয়া প্রেসগুলো এই কাজ করায় ছাপার মান নিম্নমানের হয়েছে। তবে উপস্থিত ছাপাখানার লোকজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, এনসিটিবি’র তত্ত্বাবধানে পাঠ্যপুস্তক ছাপা ও বিতরণের কাজ চলছে। দেশের প্রায় ৪০০ ছাপাখানায় (প্রিন্টিং প্রেস) পাঠ্যবই ছাপা, কাটিং ও বাইন্ডিং করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হচ্ছে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ পাঠ্যবই।







