যে ১৫ কারণে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিলেন আদালত

জামাল উদ্দিন ও তোফায়েল হোছাইন
২৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৪১আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:১৭



খালেদা জিয়া (ছবি: সংগৃহীত)

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন আইনের যে ধারায় মামলাটি দায়ের হয়, সে অনুযায়ী এটিই সর্বোচ্চ শাস্তি।
রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান সোমবার (২৯ অক্টোবর) এ রায় ঘোষণা করেন।
একইসঙ্গে খালেদা জিয়াসহ প্রত্যেক আসামিকে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ট্রাস্টের নামে ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া ও অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৫টি বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন আদালত। সেগুলো হচ্ছে—
১. আসামি খালেদা জিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ‘শহীদ জিয়াউর রহমান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ নামে ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন কিনা এবং ওই ট্রাস্টের দাফতরিক ঠিকানা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৬, শহীদ মঈনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন কিনা;
২. আসামি বেগম খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলে ট্রাস্টের ট্রাস্টি ছিলেন কিনা;
৩. ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি হিসেবে সোনালী ব্যাংক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখা, ঢাকায় ০৯-০১-২০০৫ তারিখে সঞ্চয়ী হিসাব (নং ৩৪০৭৬১৬৫) খুলেছিলেন কিনা;
৪. মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের নাম ব্যবহার করে ১৬-০১-২০০৫ তারিখে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ধানমন্ডি শাখা, ঢাকা থেকে পাঁচটি পে অর্ডারের মাধ্যমে সর্বমোট এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা ট্রাস্ট্রের ৩৪০৭৬১৬৫ নং হিসাবে জমা হয় কিনা;
৫. আসামি খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব আসামি আবুল হারিছ চৌধুরী ওই এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে ওই ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার জন্যে ওই টাকা তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের সহকারী একান্ত সচিব আসামি মনিরুল ইসলাম খানকে দিয়েছিলেন কিনা এবং এই আসামি মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের নাম ব্যবহার করে পাঁচটি পে অর্ডারের মাধ্যমে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা ট্রাস্টের অ্যকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন কিনা;
৬. আসামি খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব আসামি আবুল হারিছ চৌধুরী ২৭ লাখ টাকা ওই ট্রাস্টের অ্যকাউন্টে জমা দেওয়ার জন্য সেটি তার সহকারী একান্ত সচিব আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নাকে দিয়েছিলেন কিনা এবং তিনি এই টাকা বিগত ১৮-০১-২০০৫ তারিখে ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছিলেন কিনা;
৭. আসামি খালেদা জিয়া অন্য আসামিদের যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত ১৩-০১-২০০৫ থেকে ১৯-০১-২০০৫ পর্যন্ত বিএনপির বিভিন্ন দলীয় ব্যাংক হিসাব থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই অনিয়মিতভাবে ছয় কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা উল্লেখিত ট্রাস্টের হিসাবে (নং ৩৪০৭৬১৬৫) জমা করানোর ব্যবস্থা করেন কিনা;
৮. ট্রাস্ট্রের অর্থ ব্যয় করে শহীদ জিয়াউর রহমান চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ছয় কোটি ৫২ লাখ সাত হাজার টাকা মূল্যে জনৈক সুরাইয়া খানের কাছ থেকে ঢাকা শহরের কারাইল মৌজার ৪২ কাঠা জমি ও সেটির ওপর অবস্থিত স্থাপনাসহ ক্রয় করা হয় কিনা এবং আসামি খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে বর্ণিত সুরাইয়া খানকে দলিল মূল্যের অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন কিনা;
৯. ট্রাস্টের তহবিল থেকে উত্তোলিত অর্থ চ্যারিটেবল কাজে ব্যয় করা হয়েছে কিনা;
১০. ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল মেয়াদের পরবর্তী সময়ে বর্ণিত ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাবে আর কোনও অর্থ জমা হয় কিনা;
১১. আসামি বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে অন্য আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অবৈধভাবে সর্বমোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা সংগ্রহ, জমা ও খরচ করেন কিনা;
১২. আসামি আবুল হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং মনিরুল ইসলাম খান বর্ণিত তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা সংগ্রহ, জমা ও খরচ করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আসামি খালেদা জিয়া সহায়তা করেন কিনা;
১৩. আসামিরা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন কিনা;
১৪. প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে সক্ষম হয়েছে কিনা এবং
১৫. আসমিরা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য কিনা।
এছাড়া আদালত আদেশে বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকে অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ট্রাস্টের অনুকূলে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা কখনও কাম্য হতে পারে না। তাই ভবিষ্যতে যাতে অনুরূপ দায়িত্বে থেকে কেউ ওই ধরনের অপরাধ করতে উৎসাহিত না হন সেজন্য খালেদা জিয়াকে কঠোর শাস্তি দেওয়া অত্যাবশ্যক। অন্য তিন আসামি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে আসামি বেগম খালেদা জিয়াকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ওই ধরনের অপরাধে সহায়তার জন্য তাদেরও সমপরিমাণ শাস্তি প্রদান করা যুক্তিসংগত বলে মনে করেন আদালত।

 

/এইচআই/
সম্পর্কিত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সর্বশেষ খবর
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান