‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লড়াই করে এ দেশের জন্ম। আমরা তাদের যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি ঠিকই; কিন্তু এখনও সাম্প্রদায়িকতাকে কবর দিতে পারিনি।’ শুক্রবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ অনলাইন একটিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতার সেকাল-একাল’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের সবার যুদ্ধের ইতিহাস আছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানের যুদ্ধের কোনও ইতিহাস নাই। জিয়াউর রহমান এদেশে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ক্ষমতায় এসে রাজাকার-আলবদর-আলসামসদের উজ্জীবিত করেছিলেন। প্রায় সব রাজাকারের বিচার হয়েছে, কিন্তু জিয়াউর রহমানের বিচার হয়নি। তার মরণোত্তোর বিচার করা উচিত, একই সঙ্গে জিয়াপন্থীদের বিচার করা উচিত। আর তাদের বিচার হলেই সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের উৎঘাটন হবে এবং সেটা প্রতিহত করা আমাদের জন্য সহজ হবে।’
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘উদার ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনের জন্য ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করা হয়। এটা আমাদের একটা স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে আমরা আবার সেই পাকিস্তানে ফিরে যাই। সেই রাজনীতিকে আজও আমরা পরাজিত করতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির চর্চা শুরু করেছিলেন। ধর্ম মানুষের পরিচয় হতে পারে না। দেশকে উদার ও অসাম্প্রদায়িক করার জন্য ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। ধর্ম কখনও রাজনীতি চর্চার বিষয় হতে পারে না।’
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিব বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনীতির একটি অস্ত্র হিসেবে ধারণ করা হয়েছে। তাই একটি গোষ্ঠী ধারণা করছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশে যদি হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া যায়, তবে ভোটের বাক্সে জয়ী হওয়া যাবে। কিন্তু এটা ভাবা ভুল। তারা এখনও সাম্প্রদায়িকতার ষড়যন্ত্র বিস্তার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রাখতে হয়, তবে সাম্প্রদায়িকতার মূল উৎপাটন করতে হবে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ, তারা এখন আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি। কিন্তু আমার মনে হয়, আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে হবে না। সর্তক থাকতে হবে। কারণ, যেকোনও সময় তারা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে ছোবল মারবে। তারা ১৯৭৫-৯৬ পর্যন্ত দেশকে একটি পাকিস্তান ভাবাদর্শের দেশ হিসেবে পরিণত করেছিল। এরপর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।’
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ৯ মাস যুদ্ধের পর আমরা সেই যুদ্ধে জয়লাভ করি। সাংবিধান প্রণয়নের দিবসে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে কোনও রাজনীতি হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল নকশা প্রণয়ন করেন জিয়াউর রহমান। এরপর তিনি দেশকে পাকিস্তান বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। এরপর রাজাকাররা আবার দেশে ফিরতে শুরু করে এবং রাজনীতি শুরু করে।’
বোয়াফের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের উপস্থাপনায় আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন– সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিন্নাত হুদা, লেখক ও সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ প্রমুখ।








