সুবর্ণচরে আবারও সংঘবদ্ধভাবে নারী ধর্ষণের ঘটনাটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এবং প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। নির্যাতিতা (ভিকটিম) নারীর সঙ্গে কথা বলার পর আজ বুধবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
মহিলা পরিষদে মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণচরের ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
আয়েশা খানম বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন সুবর্ণচরের নারী। তিনি নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাজউদ্দিন বাবরের পক্ষে (চশমা প্রতীক) কাজ করেছেন। বাবরের প্রতিপক্ষ ছিলেন বাহার চৌধুরী (তালা প্রতীক)। তালা প্রতীকের সমর্থকরা ওই নারীকে তাদের পক্ষে কাজ করতে বলেছিল কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই প্রতিশোধ স্পৃহা থেকেই তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তালা প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক।’
আয়শা খানম বলেন, বর্তমানে নির্যাতনের শিকার নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধি দল কথা বলেন। প্রতিনিধি দলকে ধর্ষণের শিকার নারী জানিয়েছেন, ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় মাঝপথে প্রতিপক্ষ তালা প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক তাকে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি ও গালিগালাজ করতে থাকে। এজন্য তিনি ভয় পেয়ে ওই পথে বাড়ি না গিয়ে তার এক আত্মীয়ের বাসায় যান। পরে সন্ধ্যায় তার স্বামীর সঙ্গে তিনি মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে পথের মধ্যে আনুমানিক ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত তার স্বামীর মোটরসাইকেল আটকায় এবং ওই নারীকে জোর করে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ধর্ষকদের মধ্যে বেচু মাঝি (৩৫) পিতা- আব্দুল মতলব, আবুল বাশার (৩০) পিতা- খালেক মাঝি, ফজলু (২৫) পিতা সিরাজ সরদারকে তিনি চিনেছেন। আর তার স্বামী মো. শাহাজাহানকে মারধর করে হেলাল, রুবেল, রায়হান, আরমান। তবে এর পেছনে ইউসুফ মাঝি মূল ভূমিকায় আছে বলে নির্যাতিতা ধারণা করছেন।
তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলকে নির্যাতনের শিকার নারী জানায় যে যারা তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে তাদের সবাইকে তিনি চেনেন। এলাকায় নারী নির্যাতনকারী হিসেবে সবাই তাদেরকে চেনে। এর আগেও বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে অসহায় নারীদের অর্থ এবং ভয় ভীতি প্রদর্শন করে তাদের মুখ বন্ধ করে রেখেছিল এরা। এই ঘটনার পরের দিন তার স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, একই এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা বার বার ঘটছে- এই বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি সহিংসতার শিকার নারীর নিরাপত্তার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সুবর্ণচরের এই ঘটনার নারীর সাক্ষাতকার নেয়া পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন-সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, পরিচালক লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যাডভোকেট মাকছুদা আখতার লাইলী, পরিচালক অ্যাডভোকেসি জনা গোস্বামী এবং আইটি অফিসার দোলন কৃষ্ণ শীল। গত মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল দলটি এলাকা পরিদর্শনে যান এবং নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিনিধি দল নোয়াখালী সদরের সিভিল সার্জন, নোয়াখালী জেলা সদরের এসপি এবং জেলা প্রশাসকসহ অন্যদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে সুবর্ণচরেই এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে নৌকা প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক। এ ঘটনার দাগ না শুকাতেই ৩১ মার্চ রাতে আবারও এমন ঘটনা ঘটলো আরেক গৃহবধূর সঙ্গে।







