সমাজের নির্যাতিত-নিপীড়িত ব্যক্তি, বিশেষভাবে নারী ও শিশুরা যেন বিনামূল্যে আইন সহায়তা (লিগ্যাল এইড) থেকে যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
রবিবার (৫ মে) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘উচ্চ আদালতে সরকারি আইনি সেবা: চলমান প্রক্রিয়া ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের একথা বলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এসময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি ব্যবস্থাপনায় আইনগত সহায়তা পাওয়া কোনও দান বা করুণা নয়; এটা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার, আর রাষ্ট্রের এক অপরিহার্য দায়িত্ব। আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থদের আইনগত সহায়তা দিতে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ প্রণীত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ ন্যায় বিচার প্রাপ্তি এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার একটি সর্বজনীন মৌলিক মানবাধিকার। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং দরিদ্রবান্ধব ও জনকল্যাণকর বিচার ব্যবস্থার অন্যতম শক্তি হলো লিগ্যাল এইড তথা আইনগত সহায়তা প্রদান। আইনের দৃষ্টিতে সমতা’র যে বাণী আমরা বারবার প্রতিধ্বনি করি, আইনগত সহায়তা ছাড়া তা কখনোই বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়।’
বিনামূল্যে আইন সহায়তা দেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯০ জনকে বিভিন্নভাবে লিগ্যাল এইড প্রদান করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যাত্রা শুরু করে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই কমিটি ১৩ হাজার ৮৩১ জনকে লিগ্যাল এইড প্রদান করেছে।’
লিগ্যাল এইড বিষয়ক আইন প্রতিটি ল’স্কুলের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলেও জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি জনাব এম ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার ড. মো. জাকির হোসেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক আমিনুল ইসলাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী শাহীন আনাম প্রমুখ।








