ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিছক বন্ধুত্বের নয় বরং অনেক আত্মত্যাগ, জীবনদান এবং রক্তের বিনিময়ে এটি অর্জিত হয়েছে। দু'দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ক ঐতিহাসিক, হৃদ্যতাপূর্ণ এবং রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত মহানগর মহিলা কলেজে ‘নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাঈদ খোকন বলেন, বাংলাদেশ আজ বদলে গেছে। এখন দেশের কর্মযজ্ঞে নারীর উপস্থিতি পঞ্চাশ শতাংশ। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুউচ্চ পদে নারীরা পুরুষের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এসব সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ অবদানের কারণে। নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়নে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে নারী-পুরুষের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে এসেছে।
মেয়র বলেন, উভয় দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি তাক লাগানোর মতো। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয়। পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে উভয় দেশই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কাছের বন্ধুদেশ উল্লেখ করে চিকিৎসা, ভ্রমণ, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন বন্ধনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দু’দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গভীর এবং আত্মিক।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, একমাত্র শিক্ষাই বদলে দিতে পারে জীবন, বদলে দিতে পারে জেনারেশন। বদলে দিতে পারে পরিবার এবং সমাজ। উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমেই একজন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নীতি হচ্ছে প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে বাংলাদেশ। গত বছর ১৫ লাখ বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতের ভিসা দেওয়া হয়েছে। এখন যেসব দেশ থেকে মানুষ ভারতে আসে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি পর্যটক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনিরুল ইসলাম।








