হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলা মামলার রায় আর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এই রায় ঘোষণা করবেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে আসামিদের বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন হামলায় স্বজন হারানো অনেকে। আসামিদের কেউ কেউ যখন ভি চিহ্ন দেখাচ্ছিল, তখন স্বজন হারানো ব্যক্তিরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
আদালতে এসেছেন গুলশান হামলায় নিহত গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিমের ভাই শামসুজ্জামান শামসও।
শামস মানিকগঞ্জ থেকে সকাল সকাল আদালত চত্বরে এসেছেন ভাইয়ের হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তির আশা নিয়ে।
আসামিদের হাজির করার দৃশ্য আদালত চত্বরে থাকা অনেকে ভিডিও করেছেন। নাম না জানা এক ব্যক্তির কাছ থেকে করা সেরকমই একটি ভিডিও নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন শামস।
ভিডিওতে দেখা যায়, আসামিরা ভি চিহ্ন দেখাচ্ছে, কেউ আবার এক আঙুল দেখিয়ে কিছু একটা বোঝাতে চাইছে।
সেই ভিডিও নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শামস লিখেছেন, ‘ওরা হাসছে!!! কেউ কেউ ভি চিহ্ন দেখাচ্ছে। আবার কেউ এক আঙুল দেখিয়ে কিছু একটা বুঝাতে চাচ্ছে। আজ শুধু হাসি নেই, যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের। কেবলমাত্র দৃষ্টান্তমূলক রায়ের অপেক্ষা।’
ভিডিওতে দেখা যায়, আসামিদের হাসি এবং কেউ ভি চিহ্ন দেখানোর পর উপস্থিত জনতাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কেউ কেউ অবাক হন তারা কী করে এখনও হাসতে পারছে।
পরে শামস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাইয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি নিয়ে তিনি আদালতে হাজির হয়েছেন।’ এখনও ভাইকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি এই পরিবারটি, ছেলেকে হারিয়ে মা করিমুন্নেছা এখন শয্যাযায়ী।
রবিউল ইসলামের বৃদ্ধ মা মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে বসে কান্নাকাটি করছেন, ওরা যেন শাস্তি পায়। এ রায় এমন হবে যেন সন্ত্রাসবাদে উদ্ধুদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছেন যারা, তারা যেন এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং এ ধরনের ঘটনার আর না ঘাটে।
মামলার তদন্ত সংস্থা এবং সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযুক্ত আট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীদের দাবি- সরকার পক্ষ আসামিদের অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এসময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় মামলা করে পুলিশ।








