দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যাসহ তাদের কাজের বৈধ অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) ও আয়করের তথ্য প্রতিবেদন আকারে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের আইন অনুসারে ওয়ার্ক পারমিট দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), এনজিও ব্যুরো ও বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) এই প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মীদের কাজ করার ক্ষেত্রে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
চার সপ্তাহের মধ্যে বিডা, এনজিও ব্যুরো ও বেপজাসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের ‘বাংলাদেশে এত বিদেশি কর্মী কেন’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশিত হয়। পরে গত ১২ ডিসেম্বর সেটি সংযুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজুর নাহিদ রিটটি দায়ের করেন।
ওই কলামে বলা হয়, একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুসারে বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। খবরটির উৎস প্রধানত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)। গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এই সংস্থা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও শিল্প বণিক সমিতি বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, যেকোনও বিদেশি বাংলাদেশে কাজ করতে চাইলে বিডা থেকে ওয়ার্ক পারমিট নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন বেসরকারি এমনকি কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানেও এ নিয়ম মানা হচ্ছে না।
এতে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ৫ লাখ বিদেশি বাংলাদেশে কাজ করছেন। অথচ বিডা থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে ১ লাখ। তাদের আয়ের ওপর সরকার যথাযথভাবে করও পাচ্ছে না। কাউকে বেতন দেওয়া হচ্ছে বিদেশে। আবার এ দেশেও অনেককে ডলারে বেতন দেওয়া হয়। অথচ আয়কর বিবরণীতে তারা এটা টাকার অঙ্কে দেখান।







