ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে পার্কিং ব্যবস্থাপনার ইজারা নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ কল্যাণ সমিতি। সমিতির নামে পার্কিংয়ের ইজারা নেওয়া হলেও মূল তত্ত্বাবধান ও টিকিট বিতরণ করে টাকা আদায় করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পশ্চিম ট্রাফিক বিভাগ। ‘পার্কিং টিকিট ডিস্ট্রিবিউটর’ লেখাসংবলিত জ্যাকেট গায়ে জড়িয়ে গণভবন স্কুল ক্রসিং ও বিআইসিসি সংলগ্ন ক্রসিংয়ে পার্কিংয়ের টিকিট দিয়ে টাকা আদায় করছে পুলিশ সদস্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, পার্কিং ব্যবস্থাপনায় যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের আলাদা একটা টাকা দেওয়া হয়। তবে কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই পুলিশ সদস্যদের দিয়ে টিকিট কাটার কাজ করানো হচ্ছে, তা জানা নেই।
মেলার সদস্য সচিব ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপ-পরিচালক আবদুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেলায় পার্কিংয়ের ইজারা নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ কল্যাণ সমিতি। যারা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন তারাও পুলিশের সদস্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘কল্যাণ সমিতি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা পেয়েছে। তারা ইজারা ফি পরিশোধ করেছেন। গাড়ি থেকে কত টাকা করে রাখবে সেটা অনুমোদিত। সেই আলোকেই পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।’
ইজারা পেয়েছে ট্রাফিক পুলিশ কল্যাণ সমিতি। কিন্তু এর ব্যবস্থাপনায় কেন পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন? এমন প্রশ্নে ডিএমপির ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার জসিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, ‘এক কথাই তো হলো। ট্রাফিক পেয়েছে... অসুবিধা নাই। ২৫ বছর ধরে যেভাবে চলছে, এখনও সেভাবেই চলছে।’
জসিম উদ্দীন মোল্লা প্রতিবেদকের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা নিয়ে আপনার এত প্রশ্ন কেন? আমি তো এটাই বুঝতে পারছি না।’
পার্কিং টিকিট ডিস্ট্রিবিউটররা পুলিশের সদস্যই বলে স্বীকার করেছেন ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগ এটার দায়িত্বে রয়েছে। অনেক বছর ধরে যেভাবে চলছে, এখনও সেভাবেই চলছে। নতুন কিছুই হয়নি। এটা তো ব্যক্তির কিছু নয়। ট্রাফিক ডেকে পায়, এভাবেই কাজ চলে।’
সার্ভিসে থেকে একজন পুলিশ সদস্য এ ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারেন কিনা? এমন প্রশ্নে জসিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, ‘এটা দেখার জন্য বহু লোক আছে। এখন আমার পোস্টিং এখানে তাই আমি দেখছি। পরেরবার অন্য কেউ থাকলে তিনি দেখবেন।’
মেলায় গাড়ি পার্ক করলে টাকা, না করলেও টাকা
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করলে পার্কিং বাবদ রাখা হচ্ছে নির্ধারিত টাকা। আবার যেসব যানবাহন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) সামনের রাস্তা ব্যবহার করে অন্য কোথাও যাচ্ছে তাদের কাছ থেকেও একইরকম টাকা রাখছেন পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা।
তবে ডিএমপির ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার জসিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, ‘যেসব গাড়ি সামনের রাস্তা ব্যবহার করে অন্যত্র যাবে, তাদের কাছ থেকে পার্কিংয়ের টাকা নেওয়ার কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’
সরেজমিন দেখা গেছে, দুই পাশ থেকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করা প্রতিটি গাড়ি থেকে টিকিট দেওয়ার বিনিময়ে টাকা আদায় করছেন পার্কিং টিকিট ডিস্ট্রিবিউটররা। দুই ও তিন চাকার গাড়ির জন্য ২০ টাকা এবং চার চাকার গাড়ির জন্য ৩০ টাকা করে নিচ্ছেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। মেলায় দুই পাশ, গণভবন স্কুলক্রসিং ও বিআইসিসি সংলগ্ন ক্রসিং হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে গাড়িগুলো প্রবেশ করছে। প্রবেশমুখেই টিকিটের বই হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পার্কিং টিকিট ডিস্ট্রিবিউটররা। প্রবেশ করা প্রতিটি গাড়ি থেকেই পার্কিংয়ের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
বিআইসিসি’র সামনের রাস্তা ব্যবহার করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাশ দিয়ে আগারগাঁওয়ের দিকে যেতে চাচ্ছিলেন চালক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমি তো এখানে গাড়ি পার্ক করবো না, তাও আমার কাছ থেকে ৩০ টাকা রাখছে। না দিলে ভেতরের রাস্তায় ঢুকতে দেবে না। তাই বাধ্য হয়ে টিকিট কাটছি।
যারা গাড়ি পার্ক করবেন না তাদের কাছ থেকে টিকিটের টাকা নেওয়ার কোনও নির্দেশনা আছে কিনা? এমন প্রশ্নে এড়িয়ে যান প্রত্যেক পার্কিং টিকিট ডিস্ট্রিবিউটর। তারা বলেন, এসব বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারবো না। সিনিয়র স্যাররা এ বিষয়ে কথা বলবেন।








